বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল যেসব দল
চলমান ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে নকআউটের ছবি। কেউ কেউ ইতোমধ্যেই 'রাউন্ড অব ৩২'-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে, আবার দুই ম্যাচ খেলেই কয়েকটি দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে। সর্বশেষ বিদায়ের মিছিলে যোগ দিয়েছে পানামা।
গ্রুপ ‘এল’-এ টিকে থাকার লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল মধ্য আমেরিকার দেশটি। তবে বৃষ্টিভেজা ম্যাচে ১-০ গোলের পরাজয় তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেয়। প্রথম ম্যাচেও পয়েন্ট হারানো পানামা টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত করেছে।
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত তুরস্কের বিদায় আরও হতাশার। আর্দা গুলার, কেনান ইলদিজদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিল দেশটি। কিন্তু দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬২টি শট নিয়েও একবারও প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারার পর ১০ জনের প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় তুর্কিরা। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারছে না হাইতিও। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারার পর ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের পরাজয়ে বিদায় নিশ্চিত হয় ক্যারিবীয় দেশটির। দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারাই তাদের বড় হতাশা।
তিউনিসিয়ার ভাগ্যও বদলায়নি কোচ পরিবর্তন করেও। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় পরাজয়ের পর সাব্রি লামুশিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হার্ভে রেনার্ডকে। কিন্তু বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয় বরণ করে আফ্রিকার দলটি। ফলে তাদেরও বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।
নবাগত জর্ডান অবশ্য বিদায় নিলেও রেখে গেছে সাহসী লড়াইয়ের ছাপ। আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মতো কঠিন গ্রুপে পড়ে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে তারা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আলি ওলওয়ানের গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় জর্ডান। পরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজার আল রাশদানের গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়। দুই ম্যাচেই হারলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে বিদায় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।