ঘানার রক্ষণব্যূহে আটকে গেল ইংল্যান্ড
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বড়সড় এক ধাক্কা খেল থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। জিলেট স্টেডিয়ামে ঘানার জমাট ‘লো ব্লক’ ডিফেন্সের সামনে ম্যাচজুড়ে খেই হারিয়ে বসল ইংলিশ লায়নরা। মাঠের লড়াইয়ে ঘানার শারীরিক ফুটবল এবং সুশৃঙ্খল রক্ষণের বিপরীতে আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতার চরম অভাবে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়েছে।
পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ড ১৯টি শট নিলেও অন-টার্গেট শটের মান ছিল হতাশাজনক। ম্যাচের একদম শেষ দিকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল টুখেলের দল। নিকো ও'রাইলির জোরালো হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ফিরতি বলে শট নেন হ্যারি কেইন। কিন্তু ইংলিশ অধিনায়ক অবিশ্বাস্যভাবে বল উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে। এই এক পয়েন্টের কল্যাণে দুই দলেরই নক-আউট পর্বের রাস্তা অনেকটাই নিশ্চিত হলেও, ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে আজ টুখেলের পাসিং গেম ছিল অত্যন্ত ধীরগতির এবং অনুমেয়। বিশেষ করে আর্সেনাল উইঙ্গার ননি মাদুয়েকেকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুরো ম্যাচে মাদুয়েকেকে ডি-বক্সের ভেতর উদ্দেশ্যহীনভাবে ড্রিবলিং করতে দেখা গেছে, যা ঘানার রক্ষণ ভাঙার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কার্লোস কুইরোজের ঘানা কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললে লড়াইটি আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। ঘানার মাত্র ২টি শটের বিপরীতে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের এই ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, নক-আউট পর্বের আগে টুখেলকে তাঁর রণকৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
গ্রুপ পর্বের এই গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা ভুলে হ্যারি কেইনদের এখন তাকাতে হচ্ছে পানামার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের দিকে। কাগজে-কলমে পানামা সহজ প্রতিপক্ষ হলেও, ঘানার বিপক্ষে এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।