রাফিনিয়ার বদলে কাকে খেলাবেন, জানালেন আনচেলত্তি
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে মুখ খুললেও পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া রাফিনিয়ার পরিবর্তে তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানকে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে রায়ান মাঠের প্রস্থ কাজে লাগানোর দায়িত্ব নিতে পারেন।
নিউইয়র্ক থেকে যাত্রার সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ব্রাজিল কোচ। গ্রুপ ‘সি’-তে বর্তমানে চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে মরক্কো, যারা একই দিনে হাইতির মুখোমুখি হবে।
রাফিনিয়া চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তার বিকল্প হিসেবে আনচেলত্তির হাতে রয়েছেন রায়ান, লুইজ হেনরিকে ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। রায়ানকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনচেলত্তি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাফিনিয়ার জায়গায় নেমে রায়ান ভালো খেলেছে। এই দিক থেকে তার অনেক সম্ভাবনা আছে। আমার কাছে আরও কিছু খেলোয়াড় আছে যারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। তবে যদি মাঠে প্রস্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে রায়ান সেই ভূমিকা পালন করতে পারে।’
দলে বর্তমানে হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে আছেন ডগলাস সান্তোস ও কাসেমিরো। তবে এ নিয়ে কোনো বাড়তি ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলার বাইরে অন্য কিছু ভাবছি না। সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামব। সামনের সারির খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। রাফিনিয়ার জায়গায় কে খেলবে, সে বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার ধারণা আছে। কার্ডের কথা ভেবে পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়।’
মরক্কো ও হাইতির ম্যাচের ফল নিয়েও চিন্তিত নন ব্রাজিল কোচ। তার মতে, দলের মনোযোগ থাকা উচিত নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা মরক্কোর ম্যাচ নিয়ে ভাবছি না। আমাদের মনোযোগ থাকবে নিজেদের ম্যাচে এবং সেটি ভালোভাবে খেলার দিকে। আমরা হাইতির বিপক্ষে যেভাবে খেলেছিলাম, তার চেয়েও উন্নতি করতে চাই। তবে এটি আরও কঠিন ম্যাচ হবে। স্কটল্যান্ড একটি ভালো এবং সংগঠিত দল। তারা গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়। তাই আমরা শুধু এই ম্যাচ নিয়েই ভাবছি।’
সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন তিনি। আনচেলত্তির মতে, ব্রাজিল তারকা পুরো ম্যাচ খেলার মতোই প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে। আমিও ৯০ মিনিট হাঁটতে হাঁটতে মাঠে থাকতে পারি। সে ভালো আছে, খুব ভালোভাবে অনুশীলন করেছে। আমি তাকে নিয়ে খুবই খুশি।’
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয় অবশ্যই যায়। শেষ ম্যাচে মাতেউস কুনিয়াও দারুণ খেলেছে। আক্রমণভাগে আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। অন্য বড় দলগুলোরও অসাধারণ খেলোয়াড় আছে।’
এন্দ্রিকের সম্ভাব্য একাদশে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এন্দ্রিক সব ম্যাচেই খেলতে পারে। পরের ম্যাচেও খেলতে পারে, আবার যেকোনো সময় মাঠে নামতে পারে। তার সেই সামর্থ্য আছে। সমর্থকেরা তাকে খুব সমর্থন করে। তবে আগামীকাল নেইমারও থাকবে। তারা কাকে সমর্থন করবে—নেইমারকে নাকি এন্দ্রিককে? আমার মনে হয় দুজনকেই সমর্থন করবে।’
দলের উন্নতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচে উন্নতি করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। যদি আগামীকাল আমরা ভালো খেলতে পারি, তাহলে নকআউট পর্বের আগে নিজেদের ভালো অবস্থানে দেখতে পাব। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স আমাদের পুনরাবৃত্তি করতে হবে। বল দখলে তীব্রতা রাখতে হবে, সঠিক পাস দিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল ও বল হারানো এড়াতে হবে। এটাই আমাদের পথ। অনুশীলনে দল উন্নতি করছে এবং আমি বিশ্বাস করি আমরা আরও ভালো হব।’
ব্রাজিল সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের মতো একটি পারফরম্যান্স দেখতে চাই। সেই ম্যাচটি আমার ভালো লেগেছিল। আমি সেই মানের ফুটবলের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই—খেলার মান, আক্রমণে কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে। আগামীকালের ম্যাচে যদি আমরা সেটি দেখাতে পারি, তাহলে তা আমাদের জন্য খুব ভালো হবে।’
স্কটল্যান্ড সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘তারা শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী একটি দল। তাদের কৌশলও পরিষ্কার। সাধারণত তারা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলে। অনেক লং বল খেলে এবং ক্রসের মাধ্যমে আক্রমণ গড়ে তোলে। এই বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
দলের খেলার ধরন নিয়ে তিনি আবারও বলেন, ‘হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধের মতো খেলতে হবে। বল নিয়ে তীব্রতা দেখাতে হবে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ভুল কমাতে হবে। দল অনুশীলনে উন্নতি করছে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা আরও উন্নতি করব।’
এ পর্যন্ত দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি সন্তুষ্ট। তবে আমাদের সামনে বড় একটি লক্ষ্য আছে, সেটি হলো এই শিরোপার জন্য লড়াই করা। প্রথম ম্যাচে আমরা ভালো শুরু করেছি। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো খেলেছি। আমরা বিশ্বাস করি তৃতীয় ম্যাচে আরও উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’
কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা হাইতির বিপক্ষে যে কৌশল ব্যবহার করেছি, সেটিই অনুসরণ করব। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করব, মাঝমাঠে ভালো ফুটবল খেলব এবং রক্ষণ থেকে সুন্দরভাবে আক্রমণ গড়ে তুলব। পাকেতা ও কাসেমিরোর মতো খেলোয়াড়দের অনেক অভিজ্ঞতা ও মান আছে। মাঝমাঠে আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব নেই। আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ দল আছে। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। তাদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হলেও তারা ধীরে ধীরে আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে।’