এমবাপ্পের শততম ম্যাচে ম্যাজিক: রোনালদোকে ছুঁয়ে মেসিকে তাড়া করার মিশন
একদিকে বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির রেকর্ডের ভাঙাগড়া চলছে, আর ঠিক অন্যপ্রান্ত থেকে সেই সিংহাসনের দিকে বুলেটের গতিতে ছুটে আসছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নেমেই আজ এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে এটি তার শততম (১০০) আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর এই বিশেষ রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এমবাপ্পে সময় নিলেন মাত্র ১৩ মিনিট!
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান এমবাপ্পে। ডানহাতি ফুটবলারদের ক্ষেত্রে যা সাধারণত ‘দুর্বল পা’ হিসেবে পরিচিত, সেই বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত কোণাকুণি শটে ইরাকি গোলরক্ষক বাসিলকে পরাস্ত করেন তিনি। এমন নিখুঁত স্ট্রাইক, যা অনেক সহজাত বাঁহাতি ফুটবলারও সহজে করতে পারবেন না। এমবাপ্পের এই দুই পায়ে সমান দক্ষতার (অ্যাম্বিডেক্সট্রাস) প্রদর্শনীতে ম্যাচের শুরুতেই ১-০ গোলের লিড নেয় ফ্রান্স।
এই এক গোলেই ফুটবল ইতিহাসের একাধিক রেকর্ডের পাতায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এটি তার ১৫তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ খ্যাত কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে।
ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার জন স্ট্রং এমবাপ্পের এই গোল উদযাপনের সময় টিপ্পনী কেটে বলেই ফেললেন, “লিওনেল, একদম চিন্তা কোরো না, সে কিন্তু তোমাকেই তাড়া করছে!” অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির ১৮তম গোলের পর এমবাপ্পে যেভাবে এগোচ্ছেন, তাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন যে খুব বেশি দিন নিরাপদ নয়, তা বলাই বাহুল্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স মূলত তাদের মাঠের ডান প্রান্ত ব্যবহার করে ইরাকের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখছিল। ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দে বারবার ওভারল্যাপ করে ওসমানে ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের জন্য সামনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দিচ্ছিলেন।
এমবাপ্পের এই গোলটির কারিগরও ছিলেন ওলিসে। টুর্নামেন্ট জুড়ে ওলিসে ও এমবাপ্পের মধ্যকার এই জুগবন্দি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওলিসের পাস থেকে বল পেয়েই ম্যাচের প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন ফরাসি অধিনায়ক। শততম ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়ার রাতে এমবাপ্পের এমন শুরু ফ্রান্স শিবিরে শিরোপা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।