পেনাল্টি মিসের পর প্রচণ্ড রাগ হয়েছিল, বলছেন মেসিই
ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই বড় ইতিহাস লেখার সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ভিএআরের সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার হাতছানি ছিল তার সামনে। কিন্তু বাঁ পায়ের শটটি পোস্টের বাইরে চলে গেলে গ্যালারিতে নেমে আসে স্তব্ধতা। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
ম্যাচ শেষে মেসিও অকপটে স্বীকার করেছেন সেই মুহূর্তের মানসিক যন্ত্রণার কথা। মেসির ভাষ্যমতে, ‘পেনাল্টি মিস করার পর এমন কিছু মুহূর্ত গেছে যখন নিজের ওপর সত্যিই প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল। তবে ভালো লাগছে যে শেষ পর্যন্ত গোল করে সেটা পুষিয়ে দিতে পেরেছি।’
তবে বড় মঞ্চের গল্পগুলো কখনও এক ভুলে থেমে থাকে না। প্রথমার্ধেই সেই ভুলের জবাব দেন মেসি। ৩৮তম মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নিখুঁত পাসে পাওয়া সুযোগে ঠান্ডা মাথার ফিনিশে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান তিনি। এই গোলেই মুছে যায় পেনাল্টি মিসের হতাশা, আর ১৭ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচে এরপরও ছিল নাটকীয়তা। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। নিজের শুরু করা আক্রমণ নিজেই শেষ করে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয় এবং নকআউট পর্বে জায়গা।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরের রাউন্ড নিশ্চিত করা, আর প্রতিটি ম্যাচ জেতা তো সবসময়ই আমাদের পরিকল্পনায় থাকে। আমাদের পুরো দলটাই ভীষণ আনন্দের সঙ্গে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করছে। আমরা যখনই একত্রিত হই—মাঠে লড়াই করা, অনুশীলন করা, আমাদের প্রাত্যহিক জীবন এবং সর্বোপরি গ্যালারিতে মানুষের এমন উন্মাদনা দেখা, সবকিছুই আমরা দারুণ উপভোগ করি।’