মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা
লিওনেল মেসির জোড়া গোলে বিশ্বকাপের 'রাউন্ড অব ৩২' নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে গোলের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসিই। প্রথম গোলটি আসে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে, বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত ফিনিশে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধেও আবারও জ্বলে ওঠেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ঠান্ডা মাথার আরেকটি ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
এই জয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্টে দ্বিতীয় অস্ট্রিয়া। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই বড় সিদ্ধান্তের সামনে পড়ে যায় রেফারি। আর্জেন্টিনার আক্রমণে বক্সে ঢুকে ডি-বক্সে পড়ে যান লাউতারো মার্তিনেজ। গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগার ও এক ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি রেফারি। পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজানো হয়।
কিন্তু স্পটকিকে গিয়ে ভুল করে বসেন লিওনেল মেসি। ডান পাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে শট মেরে বসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এতে ক্যারিয়ারে ৩৩তম পেনাল্টি মিসের হতাশার রেকর্ডে নাম লেখান তিনি।
তবে ১৯তম মিনিটে ভুলের প্রায়শ্চিত্তের সুযোগও আসে। লাউতারো মার্টিনেজের পাসে গোলের সামনে সুযোগ পেলেও অতিরিক্ত টাচ নিতে গিয়ে শট নষ্ট করেন মেসি। শটটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক শ্লাগার।
অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে থিয়াগো আলমাদার দারুণ পাস, বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার নিচু কাটব্যাক—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার দলীয় বোঝাপড়ার নিখুঁত এক উদাহরণ। সেই বল পেয়ে আর ভুল করেননি মেসি। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে জালে জড়িয়ে দেন বল। এই গোলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলেন বিশ্বকাপে ১৭ গোলের মাইলফলক, ছাড়িয়ে যান মিরোস্লাভকে এবং এককভাবে বসেন ইতিহাসের শীর্ষে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচে ছিল উত্তেজনা। ৫৫ মিনিটে সাবিৎসারের শক্তিশালী ফ্রি-কিক দারুণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিনো মার্তিনেজ।
৭৪ মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করেন মেসি। তার কর্নার থেকে গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
নাটকীয়তা শেষ হয় যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। নিজের পা থেকেই শুরু হওয়া আক্রমণ নিজেই শেষ করেন মেসি। জুলিয়ান আলভারেজের শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক, তবে ফিরতি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এতে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে।
শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা, আর মেসির জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় নকআউট পর্বের টিকিটও।