গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট সমান হলে কে যাবে নকআউটে, নতুন নিয়ম জানাল ফিফা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একের পর এক ড্রয়ের কারণে বেশ কয়েকটি দল বর্তমানে সমান পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে পয়েন্ট সমান হলে কোন নিয়মে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হবে তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের টাইব্রেকার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
চলমান বিশ্বকাপে প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে অস্বাভাবিক সংখ্যক ড্র হওয়ায় অনেক দলই এক পয়েন্ট নিয়ে সমান অবস্থানে রয়েছে। এতে করে গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট সমান হলে কোন দল এগিয়ে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের পর এবারই প্রথম গ্রুপ পর্বে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর ক্ষেত্রে সামগ্রিক গোল ব্যবধানকে প্রধান বিবেচনা না করে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলকে (হেড-টু-হেড রেকর্ড) প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
অর্থাৎ দুই বা ততোধিক দল সমান পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলে প্রথমে দেখা হবে তাদের পারস্পরিক ম্যাচের ফলাফল। যে দল মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে, তারাই উচ্চ অবস্থানে থাকবে।
আরও পড়ুন: শেষ ম্যাচ জিতলেও নকআউটে যাওয়া হবে না দুই দলের, ব্যাখ্যা দিল ফিফা
তবে যদি সংশ্লিষ্ট দলগুলো নিজেদের মধ্যে ড্র করে থাকে এবং হেড-টু-হেড রেকর্ডে কোনো পার্থক্য তৈরি না হয়, তাহলে আবার বিবেচনায় আসবে সামগ্রিক গোল ব্যবধান। এরপরও সমাধান না হলে দেখা হবে কোন দল গ্রুপ পর্বে বেশি গোল করেছে।
এরপরও যদি দলগুলোর মধ্যে সমতা বজায় থাকে, তাহলে ফিফা ‘ফেয়ার প্লে’ রেকর্ড বিবেচনা করবে। অর্থাৎ যে দলের হলুদ ও লাল কার্ড কম থাকবে, তারা এগিয়ে যাবে। শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডও যদি সমান হয়, তাহলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রকাশিত ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে যে দল এগিয়ে ছিল, তারা পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নেবে।
এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় ১২টি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি আটটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
তবে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি না হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে হেড-টু-হেড রেকর্ড ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এজন্য ফিফা আলাদা একটি ‘ওয়াইল্ডকার্ড টেবিল’ তৈরি করবে, যেখানে সব তৃতীয় স্থানধারী দলকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডে র্যাঙ্কিং করা হবে।
সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল নির্ধারণে প্রথমে বিবেচনা করা হবে মোট পয়েন্ট। এরপর দেখা হবে সামগ্রিক গোল ব্যবধান। তাতেও সমতা থাকলে বিবেচনায় আসবে মোট গোলসংখ্যা। তারপর ফেয়ার প্লে রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে চলমান বিশ্বকাপে শুধু পয়েন্ট নয়, মুখোমুখি ম্যাচের ফল, গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং ফিফা র্যাঙ্কিং সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোতে এসব সূচকই নির্ধারণ করে দিতে পারে কোন দল নকআউট পর্বে উঠবে আর কার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হবে।