২১ জুন ২০২৬, ০৮:২১

শেষ ম্যাচ জিতলেও নকআউটে যাওয়া হবে না দুই দলের, ব্যাখ্যা দিল ফিফা

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা  © সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এখনো একটি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও আগেভাগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্ক ও হাইতির। পয়েন্ট তালিকার হিসাব অনুযায়ী তৃতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও ফিফার নতুন নিয়মের কারণে সেই সুযোগ হারিয়েছে দল দুটি। গ্রুপ পর্বে সমান পয়েন্ট হলে গোল ব্যবধানের পরিবর্তে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তই তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে কোনো দল সমান পয়েন্টে থাকলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হবে মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফল। এর ফলে গোল ব্যবধানের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। এই নিয়মের কারণেই তুরস্ক ও হাইতির বিশ্বকাপ অভিযান গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে গেছে।

গ্রুপ ‘ডি’-তে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে হেরে ইতোমধ্যেই তলানিতে নেমে গেছে তুরস্ক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তারা আর কোনোভাবেই গ্রুপে ওপরে উঠতে পারবে না। ফলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, তুরস্কের বিদায় নিশ্চিত।

একইভাবে গ্রুপ ‘সি’-তে স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিপক্ষে পরাজয়ের কারণে হাইতিও তলানিতে অবস্থান করছে। মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তারা আর পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নিতে পারবে না।

তুরস্ক তাদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হারে। এর আগে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল দলটি। তবে পরাজয়ের বিপরীতে আক্রমণভাগে বেশ সক্রিয় ছিল ভিনচেঞ্জো মন্টেলার শিষ্যরা। দুটি ম্যাচে তারা মোট ৬২টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে শুধু প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই ছিল ৩২টি শট।

আরও পড়ুন: নকআউট পর্বের শুরুতেই স্পেনের মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তুরস্ককে অনেকেই ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। দেশ ও দেশের বাইরে ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের প্রত্যাশা ছিল, দলটি সহজেই গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাবে। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তারা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করলেও নিজের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করতে রাজি হননি তুরস্ক কোচ ভিনচেঞ্জো মন্টেলা।

তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত, তবে একই সঙ্গে আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। ফুটবল কখনো কখনো এমনই হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত। আমাদের দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। আমাদের নিজেদেরও প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তুর্কি ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তারা কতটা পরিশ্রম করেছে, আমি জানি। খেলোয়াড়রাও কঠোর পরিশ্রম করেছে।’

মন্টেলা বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে ফুটবলের সঙ্গে আছি। সাধারণত এমন ঘটনা ৫০ বছরে একবার ঘটে, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা দুই ম্যাচেই ঘটেছে। দুই ম্যাচে ৬২টি শট নিয়েছি, বল দখলেও এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখতে বলেছি। অনেক সময় বলা হয়, ভাগ্যের বাইরে কিছু নেই। আমি সবসময় খেলোয়াড়দের পরিশ্রম, দৃঢ়তা এবং মাঠের মানসিকতার দিকে তাকাই। তারা অসাধারণ লড়াই করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম করেছে। তাদের প্রতি আমার সমর্থন নিঃশর্ত থাকবে। কেউ পিছিয়ে যায়নি, সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে। দুর্ভাগ্যবশত সেটি সফল হয়নি।’

তুরস্ক বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে শুক্রবার ভোর ৩টায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। অন্যদিকে হাইতি তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করবে আগামী ২৪ জুন রাত ১১টায় মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। নতুন নিয়মের কারণে ম্যাচ দুটি এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা হলেও সম্মান রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।