স্বস্তির জয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল ব্রাজিল
মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্রয়ের পর অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরল ব্রাজিল। হাইতিকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে ‘ক্যানারি ইয়েলো’ জার্সিধারীরা। এই জয়ে নকআউটের পথে বড় একধাপ এগিয়ে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিলের জয়ের মূল নায়ক ম্যাথিউস কুনহা, ম্যাচের প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন তিনি। পাশাপাশি আজকের গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। তাদের গোলেই হাইতিকে ৩–০ গোলে হারাল সেলেসাওরা।
অন্যদিকে বোস্টনে অন্য ম্যাচে মরক্কো ১–০ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারালেও গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্রাজিল। দুই দলই দুই ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় টেবিলের শীর্ষে উঠল সেলেসাওরা।
ফিলাডেলফিয়ার ৬৮ হাজার ৩২৪ দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতে রাফিনিহা গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিনিসিয়ুসের শট ফিরিয়ে দিলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিবাউন্ড থেকে প্রথম গোল করেন কুনহা।
হাইতির রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ব্রাজিলের আক্রমণ থেকে বল বক্সের ভেতরে পৌঁছানোর পর হাইতির ডিফেন্ডাররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে বলের নাগাল পান ম্যাথিউস কুনহা। তার নেওয়া শট হাইতির ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে। পরে বলটি আবার কুনহার শরীরে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে জালে জড়িয়ে যায়।
এরপর ভিনিসিয়ুসের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে শক্তিশালী শটে দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। তার উদযাপনে আবারও পরিচিত ‘সার্ফিং’ ভঙ্গি দেখা যায়, যা গ্যালারিতে থাকা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
প্রথমার্ধেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন কুনহা। যদিও গোলের সূচনা করেন ভিনিসিয়ুস, বাঁ-দিক থেকে চমৎকারভাবে বল বাড়িয়ে দেন কুনহার কাছে। সময় নিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বাঁ পায়ের জোরালো শটে বলটি পাঠান গোলের বাঁ-দিকের উপরের কোণে।
প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে তৃতীয় গোল করে ব্রাজিল। গোলের সূচনা করেন লুকাস পাকেতা, দারুণ এক চিপ পাসে হাইতির ডিফেন্স লাইনের ওপরে বল ভাসিয়ে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্থের ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে দৌড়ে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস।
গোলরক্ষক জনি প্লাসিড সামনে এগিয়ে এসে কোণ ছোট করার চেষ্টা করলেও, ঠান্ডা মাথায় চিপ শটে বল তার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। এতে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে কার্লো আনচেলত্তির দল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮তম মিনিটে মার্তিনেল্লির একটি শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। এর আগে মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায় আগুনে শটে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার।
৭৮তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নেমেই জাল কাঁপিয়েছিলেন এনদ্রিক। রায়ানের পাস পেয়ে ডান দিকে কেটে গিয়ে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান এনদ্রিক। তবে উদযাপন শুরু করার আগেই সহকারী রেফারির পতাকা ওঠে, ইঙ্গিত করা হয় অফসাইড অবস্থায় ছিলেন। এতে সেই গোল বাতিল হলো অফসাইডের কারণে।
ম্যাচের ইনজুরি টাইমেও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল। একেবারে ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন সিলভা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।