১৯ জুন ২০২৬, ২১:০৬

এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যেতে পারে যে দলগুলো

ফিফা বিশ্বকাপ   © সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইও জমে উঠেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুতেই নক-আউটের টিকিট কেটেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। যদিও ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে কোনো জটিল সমীকরণ ছাড়াই সরাসরি 'রাউন্ড অব ৩২'-এর টিকিট নিশ্চিত করতে হলে যেকোনো দলকে এই রাউন্ডে ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেলে গ্রুপে অন্তত শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হয়ে যাবে। 

গ্রুপ 'এ' থেকে মেক্সিকো ইতিমধ্যে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলায় বাকি গ্রুপগুলোর উদ্বোধনী ম্যাচ জয়ী দলগুলোর সামনে এখন সরাসরি নকআউটে যাওয়ার পরিষ্কার সুযোগ। তবে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েও সব বড় দলের ভাগ্য এক নয়। অন্যদিকে কিছু বিশ্বসেরা পরাশক্তি দল এমন সমীকরণে আটকে গেছে যে, দ্বিতীয় ম্যাচে বড় জয় পেলেও এই রাউন্ডে তাদের পরের পর্বে যাওয়ার কোনো গাণিতিক সুযোগ নেই।

উদ্বোধনী ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়া দলগুলো দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেই সরাসরি শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেবে। গ্রুপ 'সি' থেকে স্কটল্যান্ড যদি মরক্কোকে হারাতে পারে, তবে তাদের সংগ্রহ হবে ৬ পয়েন্ট, যা তাদের শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করবে। 

গ্রুপ 'ডি'-তে মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে জয়ী এই দুই দলের লড়াইয়ে যে দলই মাঠের শেষ বাঁশিতে জয় নিয়ে ফিরবে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে চলে যাবে তারা। তবে ম্যাচটি ড্র হলে দুই দলের কেউই এই রাউন্ডে কোয়ালিফাই করতে পারবে না। 

গ্রুপ 'ই'-তে দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি লড়বে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট, এই ম্যাচের জয়ী দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে অনায়াসে পরের রাউন্ডে চলে যাবে। 

গ্রুপ 'এফ'-এ সুইডেন যদি নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারে, তবে সুইডিশদের ৬ পয়েন্ট নিশ্চিত হবে এবং তারা নকআউটের টিকিট পাবে। একইভাবে গ্রুপ 'আই'-তে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও নরওয়ে, যেখানে এই ম্যাচের জয়ী দলই নিশ্চিত করবে পরের রাউন্ড। 

গ্রুপ 'জে'-তে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা যদি অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারে, তবে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউটে পা রাখবে আলবিসেলেস্তেরা; বিপরীতভাবে, অস্ট্রিয়া অঘটন ঘটিয়ে জিতলে তারা চলে যাবে পরের রাউন্ডে। 

গ্রুপ 'কে'-তে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে জয় পেলেই ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্ব নিশ্চিত কলম্বিয়ানদের। এ ছাড়া গ্রুপ 'এল'তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ঘানা, যেখানে এই ম্যাচের জয়ী দল নিশ্চিতভাবেই শেষ বত্রিশে নাম লেখাবে।

অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ও ফেভারিট দল এই রাউন্ডে গাণিতিকভাবে কোনো অবস্থাতেই পরের পর্বে যেতে পারছে না। মূলত তিনটি ভিন্ন কারণে তারা আটকে গেছে। প্রথম কারণটি হলো উদ্বোধনী ম্যাচ ড্র হওয়ার ফাঁদে পড়া। প্রথম ম্যাচ ড্র করায় এই দলগুলো দ্বিতীয় ম্যাচে জিতলেও সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। 

৪৮ দলের নতুন নিয়মে ওয়াইল্ডকার্ডের জটিলতার কারণে তৃতীয় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করা অসম্ভব। এই তালিকায় ব্রাজিল আছে, মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর হাইতির বিপক্ষে জিতলেও সেলেসাওদের পয়েন্ট হবে ৪, গ্রুপ পর্ব পার হতে গাণিতিকভাবে যথেষ্ট নয় এটি। কেপ ভার্দের সাথে ০-০ ড্র করায় স্পেনের এই রাউন্ডে সর্বোচ্চ সম্ভব পয়েন্ট ৪। 

অন্যদিকে মিশরের সাথে ১-১ ড্র করায় বেলজিয়ামের পয়েন্টও ৪-এর বেশি হওয়া সম্ভব নয়। জাপানের সাথে ২-২ ড্র করা নেদারল্যান্ডস পরবর্তী ম্যাচে শক্তিশালী সুইডেনের মুখোমুখি হবে এবং জিতলেও ৪ পয়েন্টের বেশি পাবে না। কঙ্গোর সাথে ১-১ ড্র করায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের পয়েন্টও এই রাউন্ডে ৪-এর বেশি বাড়ছে না এবং সৌদি আরবের সাথে ১-১ ড্র করার কারণে উরুগুয়েকেও অপেক্ষা করতে হবে তৃতীয় ম্যাচ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় কারণটি হলো তিন দলের সমতার ফাঁদ। কানাডা ও সুইজারল্যান্ড দুই দলই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে বর্তমানে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। কিন্তু গ্রুপ 'বি'-এর অন্য ম্যাচে বসনিয়া ও কাতার ড্র করায় একটি গাণিতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, এর ফলে তিনটি দলই ৪ পয়েন্টে খেলা শেষ করার সুযোগ রয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমতার আশঙ্কায় কানাডা বা সুইজারল্যান্ড কেউই এখনো গাণিতিকভাবে নিরাপদ নয়।

সর্বশেষ কারণটি হলো প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের ধাক্কা। গ্রুপ 'এল'-এ ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া। তারা যদি তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পানামাকে হারিয়ে ঘুরেও দাঁড়ায়, তা-ও তাদের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৩। ফলে তৃতীয় ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে ক্রোয়েশিয়া সম্পূর্ণ ঝুঁকিতেই থাকছে।