১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৫

এনড্রিকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আনচেলত্তি, দিলেন প্রথম একাদশে না খেলানোর ব্যাখ্যা

আনচেলত্তি ও এনড্রিক   © সংগৃহীত

ব্রাজিল জাতীয় দলের তরুণ স্ট্রাইকার এনড্রিকের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁকে শুরুর একাদশে না রাখার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পুরো সময় বেঞ্চে বসে থাকায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান এই কোচ সেই কৌতুহলের অবসান ঘটিয়ে জানান, মরক্কো ম্যাচের বিশেষ পরিস্থিতি এবং জার্সির মানসিক চাপের কারণেই মূলত এনড্রিককে মাঠে নামানো হয়নি। একই সাথে তিনি এনড্রিককে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না করে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

এনড্রিককে কেন প্রথম ম্যাচে খেলানো হয়নি, তার ব্যাখ্যায় আনচেলত্তি বলেন, 'ম্যাচের প্রথমার্ধ আমাদের ভাবনার বাইরে ছিল। আমার মনে হয় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ এবং জার্সির চাপ—সবকিছুই খেলোয়াড়দের মানসিকতায় প্রভাব ফেলেছিল।' কোচ আরও স্পষ্ট করেন যে টুর্নামেন্ট ভালোভাবে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটাই শেষ কথা নয়। তাঁর মতে, 'দলকে আরও নিখুঁত এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার মতো সহনশীল হতে হবে। আমাদের এই দলটির সেই সহনশীলতা আছে এবং তারা আরও উন্নতি করবে।' তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এনড্রিককে বেঞ্চে রেখেছিলেন তিনি।

তবে দলের এই তরুণ তুর্কি যে খুব দ্রুতই মাঠে নামবেন, সেই আশ্বাস দিয়ে আনচেলত্তি হেসে বলেন, 'আমাদের সঠিক সময়ে এনড্রিককে মাঠে নামাতে হবে। চলুন আমরা একটু অপেক্ষা করি। সে দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'

সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সব বিকল্প নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। রিয়াল মাদ্রিদে নিজের অধীনে খেলা সাবেক এই শিষ্যের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি দলের অন্য স্ট্রাইকারদের সাথে এনড্রিকের তুলনা করেন। আনচেলত্তি বলেন, 'মাথেউস কুনিয়া মূলত লিঙ্ক-আপ করে খেলতে পছন্দ করে এবং সে মূল স্ট্রাইকারের চেয়ে সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে বেশি কার্যকর। অন্যদিকে, ইগর থিয়াগোর মধ্যে পিওর স্ট্রাইকার বা রেফারেন্স খেলোয়াড় হওয়ার গুণ আছে; সে শক্তিশালী এবং অনেক বেশি আগ্রাসী। এনড্রিক এই দুজনের মতো নয়, সে একজন অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়।' কোচের দৃঢ় বিশ্বাস, 'ব্রাজিল এই বিশ্বকাপে এবং আগামী বিশ্বকাপেও তার দক্ষতার পুরো সুবিধা পাবে।'

এনড্রিকের মাঠের খেলা ছাড়াও তাঁর মানসিক পরিপক্বতা কোচের নজর কেড়েছে। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের প্রশংসা করে আনচেলত্তি আরও বলেন, 'সে অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। নিজের বয়সের তুলনায় সে অনেক বেশি ম্যাচিউর (পরিপক্ব)। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। এমনকি তার পরিবারও তার পাশে থেকে যথেষ্ট ধৈর্য দেখাচ্ছে, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য দারুণ ইতিবাচক।'

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকা ব্রাজিল আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে। প্রথম ম্যাচের সেই মানসিক চাপ ও খরা কাটিয়ে এই ম্যাচেই প্রথম জয়ের খোঁজে মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা, যেখানে ভক্তরা এনড্রিকের মাঠে নামার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।