রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বড় ব্যবধানে হারাল ইংল্যান্ড
রোমাঞ্চকর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ছয় গোলের জমজমাট লড়াইয়ে জোড়া গোল করে নায়ক বনে যান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বাকি দুই গোল করেন জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে গোল করেন মার্তিন বাতুরিনা ও পেতার মুসা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে জুড বেলিংহাম, ননি মাদুয়েকে ও হ্যারি কেইনদের সামনে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। যদিও প্রথমার্ধে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল তারা।
ম্যাচের ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেইন। তবে গোলের আগে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বক্সের ভেতরে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ননি মাদুয়েকেকে ফাউল করেন ৪০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
প্রথমবারের শটটি ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগেই গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। ফলে পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি কেইন।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে পেনাল্টি থেকে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তিনি পেছনে ফেলেন লিওনেল মেসি, ইউসেবিও, রব রেনসেনব্রিঙ্ক ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে।
গোল হজমের পর পাল্টা আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে সমতা ফেরান মার্তিন বাতুরিনা। এরপর দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। সেই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় গ্যারি লিনেকারের পাশে জায়গা করে নেন তিনি। দুজনেরই বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন পেতার মুসা। ফলে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর দুই মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে গিয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। এই গোলেই আবারও এগিয়ে যায় টমাস টুখেলের দল।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। অন্যদিকে ইংল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে বদলি হিসেবে নামা মার্কাস রাশফোর্ড চতুর্থ গোল করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচে ইংল্যান্ড ২২টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয় ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ম্যাচ শেষে জোড়া গোল করা হ্যারি কেইন বলেন, 'ম্যাচটা দুই অর্ধে দুই রকম হয়েছে। প্রথম অর্ধে আমরা মোটামুটি ঠিকঠাকই খেলছি। কিন্তু যেভাবে গোল হজম করেছি, তা সত্যিই হতাশাজনক। মনে হয়েছে, কিছুটা হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।'
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কোচ টমাস টুখেলের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কেইন বলেন, 'কৃতিত্ব পাওনা কোচের। বিরতিতে তিনি আমাদের উদ্দেশে দারুণ বক্তব্য দেন। বলেছিলেন, যদি আমাদের হারতেই হয়, তবে যেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে হারি। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্সেই সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে। আমরা পুরো শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি এবং ওরা আমাদের সেই গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি।'
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজেদের শক্তির জানান দিল ইংল্যান্ড। আক্রমণভাগের ধার, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা তাই ম্যাচ শেষে নতুন করে গাইতেই পারেন—‘ইটস কামিং হোম!’।