১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫০

পর্তুগালকে রুখে দিয়ে কঙ্গোর বিশ্বকাপ রূপকথা এবং নকআউটের সমীকরণ

পর্তুগাল-কঙ্গো ম্যাচ  © সংগৃহীত

ঠিক ৫২ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে এমন এক মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স উপহার দেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, তা হয়তো খোদ দলটির অন্ধ-ভক্তরাও ভাবেননি। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে যখন চারদিকে একটা বড়সড় বিপর্যয় আর অপমানের আশঙ্কা জেঁকে বসেছিল, ঠিক তখনই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় কঙ্গো। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল পরিশোধ করে সমতায় ফেরার পর, দ্বিতীয় অর্ধে যেভাবে তারা পর্তুগালকে হতাশ ও বোতলবন্দি করে ম্যাচটি ড্র করেছে, তা এক কথায় অসাধারণ।

রবার্তো মার্টিনেজের পর্তুগাল দল যেভাবে ম্যাচটিকে নিজেদের একটি সহজ জয়যাত্রা ভেবে মাঠে নেমেছিল, মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল তার সম্পূর্ণ উল্টো। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, পর্তুগিজদের আক্রমণভাগের পরিকল্পনাহীনতা আর ধারহীন ফুটবল মার্টিনেজের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, কঙ্গোর এই ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক প্রদর্শনীর জন্ম দিয়েছে।

কঙ্গো কি পারবে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে?

পর্তুগালকে রুখে দিয়ে একটি মূল্যবান পয়েন্ট তুলে নিলেও, কঙ্গোর জন্য গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়া এখনো একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শক্তির সমীকরণ এবং গ্রুপ পর্বের কঠিন কাঠামোর কারণে নকআউট পর্বে যাওয়ার পথটি কঙ্গোর জন্য এখনো বেশ কঠিন ও জটিল। তবে মাঠের ফুটবলে তারা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে, তাতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

ম্যাচের শেষ ড্রিংকস ব্রেকের সময় গ্যালারিতে বাজা সেই বিখ্যাত গানের সুরের মতোই—'ডন’ট স্টপ বিলিভিং’' (বিশ্বাস হারিও না)। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা এই আফ্রিকান দেশটির জন্য নকআউটের টিকিট পাওয়াটা কঠিন হলেও, পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে কাঁপিয়ে দেওয়ার পর কঙ্গো ভক্তরা এখন বুকভরে স্বপ্ন দেখতেই পারেন।