বিবর্ণ রোনালদো, বিশ্বকাপে হতাশার শুরু পর্তুগালের
বিশ্বকাপ মিশনটা প্রত্যাশামতো শুরু করতে পারল না পর্তুগাল। অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডগড়া ম্যাচে আফ্রিকার প্রতিনিধি ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইউরোপের দলটি।
অথচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিল পর্তুগাল। ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল ঠিক সেভাবেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।
ডান প্রান্তে হোয়াও ক্যানসালোর দারুণ একটি ক্রস-ফিল্ড পাস থেকে আক্রমণের সূচনা হয়। ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা প্রথমে বল ক্লিয়ার করলেও সেটি আবার ফিরে আসে পর্তুগালের দখলে। এরপর বাম দিক থেকে পেদ্রো নিখুঁত একটি ক্রস তুলে দেন বক্সে। সেখানে অসাধারণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে জোয়াও নেভেস শক্তিশালী হেডে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের ডান কোণে। শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। ক্যানসালোর নিচু ক্রস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি, তবে অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি। ফলে রক্ষা পায় ডিআর কঙ্গো।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসে আফ্রিকার দলটি। কর্নার থেকে ছোট পাসের সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ে তোলেন এমগালার্য়েল মুকাও ও আর্থার মাসুয়াকু। পরে মাসুয়াকুর ভাসিয়ে দেওয়া ক্রসে পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের ভিড়ের মাঝ থেকে সবচেয়ে উঁচুতে উঠে হেড করেন ইয়নে ভিসা। তার জোরালো হেড জালে জড়িয়ে গেলে ১-১ সমতা ফেরে ম্যাচে। একইসঙ্গে এটি ছিল ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল।
বিরতির পরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫৫তম মিনিটে ক্যানসালো দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। পরের মিনিটেই কঙ্গো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু কেদ্রিক বাবাম্বুর শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
পুরো ম্যাচে রোনালদোকে দেখা গেছে অনেকটাই নিষ্প্রভ। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার বল পেলেও গোলমুখে কার্যকর হতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। এতে বিশ্বকাপে হতাশার শুরুই হলো পর্তুগালের।