১৭ জুন ২০২৬, ১৩:০৩

বিশেষ ব্যবস্থায় ভোজিনহার মাকে মার্কিন ভিসা দেওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাট নেতার আহ্বান

ভোজিনহার ও তার পরিবার   © টিডিসি ফটো

স্পেনের বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করে রাতারাতি তারকা বনে গেছেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসেই গোলশূন্য ড্র করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে কেপ ভার্দে। 

তবে ম্যাচের নায়ক ভোজিনহা ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করে জানান, টাকার জন্য তিনি মায়ের ভিসা করতে পারেননি। ভিসার চড়া খরচের কারণে ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরা মাঠে উপস্থিত থেকে স্পেনের বিপক্ষে তাঁর ছেলের এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি দেখতে পারেননি।

এই ঘটনাটি জানার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সভার (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যালঘু দলের (ডেমোক্র্যাট) নেতা হেকিম জেফরিস দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে বিশেষ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন তিনি বিশ্বকাপে তাঁর ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার বন্ড বা জামানতের চড়া অর্থ জোগাড় করতে না পারায় আনা কান্দিদা এভোরা খেলা দেখতে আসতে পারেননি। গত জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভিসা ওভারস্টে বা ভিসার মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ঠেকাতে একটি নতুন নিয়ম চালু করে। এই নিয়ম অনুযায়ী কেপ ভার্দেসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড বা জামানত দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। কেপ ভার্দে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় এভোরার পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

অবশ্য গত মাসে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয় যে তারা বিশ্বকাপ টিকিটের মালিকদের জন্য এই জামানতের নিয়মটি শিথিল করছে। তারা জানায়, 'আসন্ন বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য বৈধ ভ্রমণকে সহজতর করতেই' এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জামানতের এই চড়া খরচের আশঙ্কায় এভোরা আটলান্টা পর্যন্ত তাঁর ৬,৪০০ কিলোমিটারের (৩,৯০০ মাইল) দীর্ঘ ভ্রমণ পরিকল্পনা আগেই বাতিল করে দেন। এই বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে আনা কান্দিদা এভোরা বলেন, 'আমি খুব করে চেয়েছিলাম সেখানে গিয়ে ম্যাচটি দেখতে, কিন্তু তা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।'

নিজের ছেলের এমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত মাঠে বসে দেখতে না পারার এই ঘটনাটি চারদিকে বেশ তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রতিনিধি সভার ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা হেকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, 'কোনো মায়েরই তাঁর সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।' 

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে তাঁর ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবকিছু করার অনুরোধ জানিয়েছি, যেন ভোজিনহার মা আগামী রবিবার তাঁর ছেলের পরের ম্যাচটিতে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন।'

এই বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) একজন কর্মকর্তা জানান, এভোরা নামের কোনো নারী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বলে তাদের নথিতে রেকর্ড নেই। তবে খেলোয়াড়দের আত্মীয়-স্বজনরা এই ভিসা বন্ড বা জামানত মকুবের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে 'ভিসা সেবার বিষয়ে সহায়তা করার জন্য এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সাথে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছে।'

গত সোমবার কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ভোজিনহা (যার আসল নাম জোসিমার দিয়াস) মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, তাঁর মা ভিসা জটিলতার কারণে মাঠে আসতে পারেননি এবং এই কারণেই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।

ভোজিনহা বলেন, 'আমার মা ভিসা জটিলতার কারণে এখানে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন ছিল, আমরা তা সময়মতো জোগাড় করতে পারিনি। অথচ আমি খুব করে চেয়েছিলাম সে এখানে আসুক।'

এবারের বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বের শুরু থেকেই বেশ কিছু ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যেমন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ইরানের জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ব্যাকরুম স্টাফকেও মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়নি। এমনকি ইরান দলের ওপর কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তারা তাদের বিশ্বকাপ বেস বা শিবির মেক্সিকোতে স্থানান্তরিত করেছে।

কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মারিও সেমেদো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান যে, ছোট দেশগুলোর দর্শকদের জন্য যাতায়াত খরচ, হোটেল ভাড়া এবং টিকিটের উচ্চ মূল্য এক বিশাল বড় সমস্যা। তিনি বলেন, 'কেপ ভার্দের একজন সাধারণ বাসিন্দার জন্য বিশ্বকাপে ভ্রমণ করা মোটেও সহজ নয়। বিমান ভাড়া, থাকার জায়গা এবং ম্যাচের টিকিটের জন্য অনেক টাকা খরচ করতে হয়।'

 তিনি আরও যোগ করেন, 'অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ সামলানোর পাশাপাশি সমর্থকদের ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করারও বিকল্প পথ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো খেলোয়াড়ের পরিবারের সদস্য যদি টুর্নামেন্টে আসতে চান, তবে তা সহজ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত।'