অস্ট্রিয়ার সঙ্গে বড় ব্যবধানে হারল জর্ডান
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে রূপকথার গল্প লেখার আভাস দিয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তি জর্ডান। তবে সান ফ্রান্সিসকো বে অ্যারেনায় শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের স্কোরলাইন নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
অস্ট্রিয়ার ফুটবলাররা চমৎকার বল পজিশনের নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ মুহূর্তের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সামলানোর দক্ষতা দেখিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেন, যেখানে জর্ডানকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ কৌশলগত আক্ষেপ নিয়ে।
ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকদের মতে, 'সান ফ্রান্সিসকো বে অ্যারেনায় ৩-১ ব্যবধানের স্কোরলাইন ম্যাচটির আসল চিত্র পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারছে না। মূলত বল পজিশনের নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ মুহূর্তের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সামলানোর দক্ষতাই ম্যাচটিতে অস্ট্রিয়াকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছে, যেখানে জর্ডানকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ কৌশলগত আক্ষেপ নিয়ে।'
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা এবং ট্যাকটিক্যাল লড়াই ছিল দেখার মতো। ম্যাচের ২০ মিনিটে রোমানো স্মিডের গোলে অস্ট্রিয়া এগিয়ে গেলেও জর্ডান রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়েনি। প্রথমার্ধে জর্ডান ব্যাকফুটে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ৫০ মিনিটে নুর আল-রাওয়াবদেহ গোল করে সমতা ফেরান। তখন মাঠের পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। আলী ওলওয়ানের চমৎকার পাস থেকে করা সেই গোলটি প্রমাণ করে যে কাউন্টার-অ্যাটাক বা প্রতিআক্রমণে জর্ডানের গতি ইউরোপীয় ডিফেন্ডারদের স্তব্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
ম্যাচের কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অস্ট্রিয়া পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে তাদের মাঝমাঠের নিখুঁত পাসিংয়ের ওপর ভর করে। অস্ট্রিয়ার ফুটবলাররা ৬২ শতাংশ বল পজিশন ধরে রেখে পুরো ম্যাচে ৫৭৯টি পাস খেলেন, যার নির্ভুলতার হার ছিল ৮৮ শতাংশ। অস্ট্রিয়ার এই ক্রমাগত পাসিং ও পজিশন হোল্ড করার কৌশল জর্ডানের ফুটবলারদের শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে ফেলে। জর্ডান মাঝেমধ্যে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ শানালেও, মাত্র ৩৮ শতাংশ পজিশন নিয়ে ম্যাচের শেষভাগ পর্যন্ত একই গতি ধরে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
তবে আক্রমণের তীব্রতায় অস্ট্রিয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না জর্ডান। ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ার ৯টি শটের বিপরীতে জর্ডানের ফুটবলাররা শট নেন ১১টি, যার মধ্যে ৪টি ছিল অন-টার্গেট। কিন্তু ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রথমটি ৬৭ মিনিটে অস্ট্রিয়ার মার্কো আরনাউতোভিচের গোল ভিএআরে বাতিল হওয়া। স্টেফান পশের হ্যান্ডবলের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করলে জর্ডান মানসিকভাবে অক্সিজেন পেয়েছিল।
কিন্তু ঠিক ৯ মিনিট পরেই, ৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বড় ভুল করে বসেন জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব। তাঁর দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলটি জর্ডানের পুরো ছন্দ নষ্ট করে দেয়। ফুটবল পণ্ডিতেরা এই ভুলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, '৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরবের আত্মঘাতী গোলটি জর্ডানের পুরো ছন্দ নষ্ট করে দেয়। বড় টুর্নামেন্টে এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং ভুলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।'
শেষ মুহূর্তে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য জর্ডান অল-আউট আক্রমণে গেলে তাদের রক্ষণভাগ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+১২ মিনিটে) পেনাল্টি আদায় করে অস্ট্রিয়া এবং আরনাউতোভিচ গোল করে জর্ডানের হার নিশ্চিত করেন। পুরো ম্যাচে অস্ট্রিয়া ১২টি ফাউল করে জর্ডানের গতি ভাঙার চেষ্টা করেছে, যেখানে জর্ডানের ফাউল ছিল মাত্র ৬টি।
স্পষ্টতই, মাঠের আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং পাসের নির্ভুলতায় অস্ট্রিয়া এগিয়ে থাকায় এবং শেষ দিকের স্নায়ুযুদ্ধে জর্ডানের ডিফেন্ডারদের ভুলের কারণেই ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে অস্ট্রিয়ার পক্ষে চলে যায়।