ম্যাচ শেষে মেসি— ‘খেলার বাইরে আমি খুব কঠিন কিছু দিন পার করেছি’
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করলেন আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলবিসেলেস্তেদের ৩-০ ব্যবধানের এই বড় জয়ের পর তিনি এক বিস্ফোরক ও আবেগঘন তথ্য প্রকাশ করলেন। মাঠের এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পরেই তিনি জানান যে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি মাঠের বাইরের কিছু জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি গোল করে এক চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। এই দুর্দান্ত ম্যাচের পর তিনি জানান যে, ফুটবলের বাইরের কিছু কারণে তিনি গত কয়েকটা দিন বেশ জটিলতার মধ্যে কাটিয়েছেন। একই সাথে এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য তিনি তাঁর সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।
ম্যাচসেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় নিজের ভেতরের আবেগ প্রকাশ করে মেসি বলেন, ‘খেলার বাইরে আমি খুব কঠিন কিছু দিন পার করেছি’। সেই সাথে তিনি আরও যোগ করেন, "সত্যি বলতে, খেলার বাইরের কিছু কারণে আমি খুব কঠিন ও জটিল কিছু দিন পার করেছি। আমি দলের পুরো প্রতিনিধি দল এবং আমার সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সবসময়, বরাবরের মতোই আমার পাশে ছিল। তারা আমাকে ভালো থাকার জন্য অনেক শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।"
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হবে। ওদের দলে খুব ভালো, গতিময় ও আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় আছে। আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে ওরা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারত। কিন্তু যখন আমাদের পায়ে বল ছিল না, তখন আমরা নিজেদের পজিশনে খুব শক্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমরা ভাগ্যবশত শুরুতেই এগিয়ে যাই এবং ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিই, যদিও আমরা সবসময় যেভাবে বল পজিশন ধরে রেখে খেলি, হয়তো আজ সেভাবে খেলতে পারিনি।'
মেসি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘প্রথমার্ধে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে, তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা বদলে যায় এবং এটাই স্বাভাবিক। যেকোনো অফিশিয়াল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ, বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলো সবসময়ই কঠিন হয়। আমাদের গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ছিল। এবারের বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে যে কেউ কাউকে সহজে ছাড় দিচ্ছে না। এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি বিশ্বকাপ, যেখানে সব দলই শক্তিশালী। প্রতিটি দলেরই নিজস্ব খেলার ধরন আছে, তারা বেশ গোছানো এবং প্রতিটি ম্যাচই খুব হাড্ডাহাড্ডি ও তীব্র লড়াইয়ের হবে। শারীরিকভাবেও অনেক দল বেশ শক্তিশালী এবং তারা ভালো খেলে, তারা আমাদের কৌশল নিয়ে পড়াশোনা করে আসে। সবকিছুই এখন খুব সমানে-সমানে।’
নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিষয়ে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। আগামী দিনে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তারকা মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার পেছনে আসল অনুপ্রেরণা কী, তা পরিষ্কার করেছেন। মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটি আমার আবেগ। আমি যখন ফিট থাকি, তখন নিজের সর্বোচ্চটা দিই। আমরা ইদানীং রাফা নাদালের একটি সিরিজ দেখছি এবং আমি তাঁর সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পাচ্ছি। আমরা এই দিক থেকে খুব একই রকম যে, আমরা সবসময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে চাই এবং মাঠে ভালো বোধ করতে চাই। আমি এভাবেই খেলাটা উপভোগ করি। আমি যতদিন পারব এবং শারীরিকভাবে ফিট থাকব, ততদিন মাঠে থাকব।’
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিয়ে মেসির ভাবনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এই রেকর্ডকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না। ক্লোসের পাশাপাশি থাকাটা অবশ্যই একটি সম্মানের বিষয়, সেখানে রোনালদোও আছে। কিন্তু আমার মনে হয় না এর কোনো বিশেষ অর্থ আছে। এমবাপের গোলসংখ্যাও কাছাকাছি, ও আজকেই দুটি গোল করেছে। এটি স্রেফ একটি পরিসংখ্যান এবং আর কিছুই নয়। তাদের সবার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারাটা অবশ্যই গর্বের, তবে আমার কাছে এর আলাদা কোনো গুরুত্ব নেই। আমি ফুটবলারদের মধ্যে যাদের দেখেছি, তাদের মধ্যে রোনালদো অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় ছিলেন এবং তিনি কিন্তু এই তালিকার প্রথমে নেই। তাই বলা যায়, সবকিছুই আসলে একটা পরিসংখ্যান মাত্র।’