১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২২

হ্যাটট্রিকে শুরু, বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড ভাঙতে পারেন মেসি

লিওনেল মেসি   © টিডিসি ফটো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত জয় দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের এই জয়ের ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা মাঠ মাতায়। দলের এই অভিষেক ম্যাচেই লিওনেল মেসি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড ছুঁয়েছেন। ম্যাচে তাঁর চমৎকার হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৬-তে দাঁড়িয়েছে। এই কীর্তি তাঁকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের সমকক্ষ করে তুলেছে। 

মেসি এবার তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন, যা সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপে তিনি এমন কিছু নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ পাবেন যা তাঁর কিংবদন্তিখ্যাতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তারকা ফুটবলার ব্যক্তিগত রেকর্ড ভাঙার এই ধারা সামনেও বজায় রাখতে চাইবেন।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা  

আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম একাদশে খেলার মাধ্যমে মেসি ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য মাইলফলকে পৌঁছে যান। এর মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম লেখান। তবে এই রেকর্ডটি তাঁকে আরও দুজনের সাথে ভাগ করে নিতে হচ্ছে। কারণ ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে এবং ৪০ বছর বয়সী গিয়ের্মো ওচোয়া মেক্সিকোর হয়ে এই আসরে অংশ নিচ্ছেন। ফলে এই তিনজন ফুটবলারই এখন মোট ছয়টি করে বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডের মালিক। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক ওচোয়া জার্মানি ২০০৬ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ সালের প্রথম দুটি আসরে স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামেননি। এমনকি চলতি টুর্নামেন্টে মেক্সিকোর প্রথম ম্যাচেও তিনি খেলার সুযোগ পাননি। এর আগে সর্বাধিক পাঁচটি করে বিশ্বকাপ খেলে এই তিনজনের পেছনে পড়ে গেছেন বিশ্ব ফুটবলের পাঁচ প্রখ্যাত তারকা—জার্মানির লোথার ম্যাথাউস, ইতালির জিয়ানলুইজি বুফন এবং মেক্সিকোর রাফায়েল মার্কেজ, আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো ও আন্তোনিও কারবাহাল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা

মেসি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মিরোস্লাভ ক্লোসের সমকক্ষ হয়েছেন। এর আগে ১৬টি গোল নিয়ে এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন জার্মান তারকা ক্লোসে। মেসি এই আসরটি শুরু করেছিলেন ১৩টি গোল নিয়ে, যা ক্লোসের চেয়ে ৩টি কম ছিল। তবে প্রথম ম্যাচেই এক অসাধারণ পারফরম্যান্সে হ্যাটট্রিক করে তিনি ক্লোসের গোলসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেন। এই তালিকায় ক্লোসে ও মেসির নিচে রয়েছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং আরেক জার্মান তারকা গার্ড মুলার (১৪ গোল)। বর্তমান সময়ে মেসির এই রেকর্ডের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ১৪।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা

বার্সেলোনার সাবেক এই জাদুকর তাঁর দারুণ ফুটবল শৈলী দিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা বা গোল করানোর রেকর্ডটিও নিজের করে নিতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা আটটি। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফুটবলের রাজা পেলে, যিনি তাঁর ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ দশটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। দলের আক্রমণভাগে মেসির বর্তমান যে ভূমিকা, তাতে পেলের এই রেকর্ড ভাঙা লিয়োর জন্য পুরোপুরি সম্ভব।

বিশ্বকাপে খেলা বেশিরভাগ ফাইনাল

লিওনেল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন—ব্রাজিল ২০১৪ এবং কাতার ২০২২। আর্জেন্টিনা যদি এবারও ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে মেসি ইতিহাসের সেইসব খেলোয়াড়দের বিশেষ দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলেছেন। তখন তিনি ছাড়িয়ে যাবেন ব্রাজিলের পেলে (১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০), কাফু (১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২) ও রোনালদো নাজারিওকে (১৯Snapshot ৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২)। একই সাথে তিনি পেছনে ফেলবেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউস (১৯৮২, ১৯৮৬ এবং ১৯৯০) ও পিয়ের লিটবারস্কিকেও (১৯Screen ৮২, ১৯৮৬ এবং ১৯৯০)। এই রেকর্ডের দৌড়ে মেসির সাথে আছেন কিলিয়ান এমবাপেরও, যিনি ইতিমধ্যে দুটি ফাইনাল খেলেছেন এবং এবার তাঁরও ফাইনাল সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক মিনিট খেলার রেকর্ড মেসি

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এমন একটি রেকর্ড রয়েছে যা তিনি ম্যাচ বাই ম্যাচ আরও বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এটি হলো বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে খেলার রেকর্ড। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ২৭টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি বর্তমানে এককভাবে মেসির দখলে। তাঁর পেছনে রয়েছেন লোথার ম্যাথাউস (২৫ ম্যাচ), মিরোস্লাভ ক্লোসে (২৪ ম্যাচ) এবং পাওলো মালদিনি (২৩ ম্যাচ)। এবারের নতুন টুর্নামেন্ট ফরম্যাটে একটি দলের সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। ফলে মেসি টুর্নামেন্টে যত দূর এগোবেন, অন্য খেলোয়াড়দের সাথে তাঁর ব্যবধান ততটাই বাড়িয়ে নিতে পারবেন। এর ফলে বিশ্বকাপে তাঁর মোট খেলার মিনিটও আরও সুদৃঢ় হবে, যা বর্তমানে ২,৩০০ মিনিটে দাঁড়িয়ে আছে।