১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৩১

বিশ্বকাপে মেসি যেসব রেকর্ড গড়েছেন

লিওনেল মেসি   © টিডিসি ফটো

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম অনেক আগেই কিংবদন্তিদের কাতারে উঠে গেছে। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা, ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে বিশ্বকাপ মঞ্চে তার অর্জনগুলো তাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে আরও কয়েকটি ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে ২০০ বা তার বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন শুধু পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কুয়েতের সাবেক ফরোয়ার্ড বাদের আল-মুতওয়া।

মেসির জন্য দিনটি আরও বিশেষ একটি কারণে। ঠিক ২০ বছর আগে এই দিনেই বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল তার। আর সেই উপলক্ষে তিনি গড়তে যাচ্ছেন আরেকটি অনন্য রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশের হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রথম ফুটবলার হবেন মেসি।

এবারের বিশ্বকাপ মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর মাধ্যমে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে খেলার রেকর্ড গড়ছেন তিনি। পরবর্তীতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া মাঠে নামলে তারাও এই রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারবেন। তবে প্রথম হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন মেসিই।

বিশ্বকাপে মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে জার্মানিতে। তরুণ বয়সে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিন ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। সেই আসরে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচ খেললেও গোলের দেখা পাননি মেসি। তবে একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। সেবারও আর্জেন্টিনার যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল মেসির অন্যতম সেরা আসর। সাত ম্যাচে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন তিনি। অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জেতেন গোল্ডেন বল। তবে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ের ১১৩তম মিনিটে মারিও গোটজের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি।

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে চার ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। কিন্তু শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের সেরা রূপ দেখান মেসি। সাত ম্যাচে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতান তিনি। ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

সেই আসরে মেসি আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বল জেতেন তিনি। ২০১৪ ও ২০২২—দুই বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মেসি খেলেছেন ২৬টি ম্যাচ। মাঠে ছিলেন মোট ২ হাজার ৩১৪ মিনিট। করেছেন ১৩টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৮টি গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সফল ফুটবলারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব শিরোপা জয়ের পরও একসময় বিশ্বকাপ ছিল মেসির সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। কিন্তু ২০২২ সালে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের রেকর্ডসমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে আরও নতুন অধ্যায় যোগ করার অপেক্ষায় আছেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।