হালান্ডের জোড়া গোলে ইরাককে বড় ব্যবধানে হারাল নরওয়ে
আরলিং হালান্ডের জোড়া গোলে দারুণ এক জয় দিয়ে আসর শুরু করেছে নরওয়ে। বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লড়াকু ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা। পুরো ম্যাচজুড়ে ইরাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় এগিয়ে ছিল নরওয়ে।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখানোর সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। পঞ্চম মিনিটে লম্বা ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে হাশিম বল বাড়িয়ে দেন আয়মেন হুসেনের দিকে। তবে খুব কাছ থেকে নেওয়া তার হেড ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি ইরাক।
অন্যদিকে শুরু থেকেই গোলের খোঁজে ছিলেন আরলিং হালান্ড। একের পর এক আক্রমণে নিজেকে জড়ান তিনি। ২০ মিনিটে কর্নার থেকে বক্সে ভাসিয়ে দেওয়া বলে কোনো মার্কিং ছাড়াই হেড করার সুযোগ পেয়েছিলেন নরওয়ের এই তারকা ফরোয়ার্ড। কিন্তু তার হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
চার মিনিট পর আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় নরওয়ে। রাইয়ারসনের ফ্রি-কিক থেকে আলেকজান্ডার সোরলথ হেড করলেও বল হাশিমের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক হাসানের হাতে চলে যায়।
তবে ২৯ মিনিটে আর ভুল করেননি হালান্ড। মোলার উলফের কাট-ব্যাক থেকে পেছনের পোস্টে স্লাইড করে এসে সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
পিছিয়ে পড়লেও দমে যায়নি ইরাক। ৩৯ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে সমতায় ফেরে দলটি। আল আম্মারির ভাসিয়ে দেওয়া ক্রসে আয়মেন হুসেন লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান। তার শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি নরওয়ের গোলরক্ষক।
তবে সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র চার মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় নরওয়ে। এবার ইরাকের গোলরক্ষক হাসানের ভুলের সুযোগ নেন হালান্ড। পাস দিতে গিয়ে চাপের মুখে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান হাসান। সুযোগ বুঝে বল দখলে নিয়ে জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতায় ফেরার দুটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। একবার পোস্টের পাশ দিয়ে বল বাইরে চলে যায়। আরেকবার হাশিমের জোরালো ভলি দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও নরওয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে ইরাক। ৫৩ মিনিটে সমতার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল দলটি। বায়েশের ক্রস থেকে আয়মেন হুসেন হেড করলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৬৩ মিনিটেও আরেকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট করে ইরাক।
ক্রমাগত চাপ সামলে ৭৬ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া কর্নার থেকে কোনো বাধা ছাড়াই হেড করে বল জালে পাঠান লিও অস্টিগার্ড। তাতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
৮৩ মিনিটে হালান্ডের সামনে হ্যাটট্রিক পূরণের সুবর্ণ সুযোগ আসে। ইকবালের ভুল ব্যাকপাস কেটে নিয়ে সরাসরি গোলের দিকে শট নেন তিনি। তবে গোলরক্ষক হাসান দুর্দান্ত সেভ করে হালান্ডকে তৃতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করেন।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ইরাকের দুর্ভাগ্য আরও বাড়ে। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে বল আয়মেন হুসেনের গায়ে লেগে নিজেদের জালেই ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলের পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি ইরাক।
শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। ম্যাচে নরওয়ে ১৩টি এবং ইরাক ১১টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে যথাক্রমে ৭ ও ১টি। আর সেই পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত দুই দলের ব্যবধান গড়ে দেয়।