১৬ জুন ২০২৬, ১০:২৭

একদিনে ৪ ম্যাচ ড্র, ভাঙ্গল ৬৮ বছরের রেকর্ড

বিশ্বকাপ ট্রফি   © সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীরা এক ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য দিন প্রত্যক্ষ করলেন। সোমবার বিশ্বমঞ্চে মাঠে নেমেছিল মোট আটটি দল। সাধারণত ফুটবল ম্যাচে হার-জিতের রোমাঞ্চ দেখতেই দর্শক মাঠে আসেন, কিন্তু এই দিনটি ফুটবল ইতিহাসকে রাঙাল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্পে। এদিন অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচের প্রতিটিই শেষ হয়েছে ড্রয়ের মাধ্যমে। আর এই অদ্ভুত সমতার মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে দীর্ঘ ৬৮ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ২-২ গোলের ড্র ম্যাচটি দিয়ে শেষ পর্যন্ত এই বিরল রেকর্ডের জন্ম হলো।

রেকর্ড ভাঙার এই মহাকাব্যে অবশ্য শুধু ইরান ও নিউজিল্যান্ডের একার অবদান ছিল না। সোমবারের অন্য তিনটি ম্যাচও সমতায় শেষ হয়েছিল। দিনের প্রথম ম্যাচে স্পেন ও কেপ ভার্দে গোলশূন্য (০-০) ড্র করে। এরপর বেলজিয়াম ও মিশর মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলে মাঠ ছাড়ে। দিনের তৃতীয় ম্যাচে সৌদি আরব ও উরুগুয়েও ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয়। সবশেষে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হলে পূর্ণতা পায় এই ঐতিহাসিক দিন।

একই দিনে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ ড্র হওয়ার ঘটনা ফুটবল বিশ্বে সর্বশেষ ঘটেছিল ৬৮ বছর আগে। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে এমন একটি দিনের দেখা মিলেছিল। কাকতালীয়ভাবে, ১৯৫৮ সালের সেই দিনটিও ছিল ১৫ জুন। তবে ২০২৬ সালের ১৫ জুনের এই দিনটি এক দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সম্পূর্ণ অনন্য ও একক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।

৬৮ বছর আগের সেই দিনেও ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছিল, তবে সেদিন আরও ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেই ৪টি ম্যাচের স্পষ্ট ফলাফল এসেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া সবকটি ম্যাচই ড্র হওয়ার কোনো নজির আগে ছিল না। ফলে ২০২৬ সালের ১৫ জুনে এসে ফুটবল বিশ্ব দেখল 'এক দিনে সব ম্যাচ ড্রয়ের নজির নেই কোনো বিশ্বকাপেই।' এর মাধ্যমে আগের সব ইতিহাস ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল চলতি বিশ্বকাপ।

ইতিহাস গড়ার এই ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ইরানকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। খেলার মাত্র ৭ মিনিটে দলের পক্ষে প্রথম গোল করেন এলিজাহ জাস্ট। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের একটি দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে তিনি ঠান্ডা মাথায় ইরানের জালে বল পাঠান।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ইরান ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি, বরং তারা দুর্দান্তভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে। ফলশ্রুতিতে ৩২ মিনিটে রামিন রেজাইয়ান বক্সের খুব কাছ থেকে নিখুঁত এক শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। সমতাসূচক এই গোলের পর পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে উপস্থিত ইরানি সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়।

বিরতির পর মাঠের লড়াই আরও জমে ওঠে। ৫৪ মিনিটে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক ক্রিস উডের আরেকটি চমৎকার সহায়তায় নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এলিজাহ জাস্ট। ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দকে একা পেয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন।

নিউজিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ইরান আবারও গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মোহাম্মদ মুহিবি দারুণ এক হেডে প্রতিপক্ষের বল জালে জড়িয়ে দেন। ফলে ম্যাচ আবার ২-২ গোলের সমতায় ফেরে।

শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত দুই দলের কেউই আর কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে দুই দলই এক পয়েন্ট করে নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে এই ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াই বা পয়েন্ট ভাগাভাগির জন্য নয়, ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন এক কীর্তি স্থাপন করার জন্য।