১৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৩

এটাই কি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় অঘটন?

স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচ   © সংগৃহীত

২০০২ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১–০ গোলে হারিয়েছিল সে সময়ের নবাগত সেনেগাল। একইভাবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইতালিকে একই ব্যবধানে হারিয়ে চমক দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এমনকি চার বছর আগে সর্বশেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলকে নাড়িয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে ফুটবল ইতিহাসে ছোট দেশগুলো প্রতিনিয়তই নিজেদের শক্তিমত্তার আভাস দিয়ে যাচ্ছে। 

স্পেন ০–০ কেপ ভার্দে; এই ম্যাচটি হয়তো সেই ঐতিহাসিক তালিকায় পড়বে না ঠিকই; কিন্তু বাস্তবতা বলছে, বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই অন্যতম ফেভারিট দলের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই ছোট অর্জন নয়। তার উপর ম্যাচজুড়ে স্পেনকে আটকে রাখার লড়াইও ছিল চোখে পড়ার মতো। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও ফেরান তোরেসের মতো তারকাখচিত আক্রমণভাগকে থামিয়ে দিয়ে কেপ ভার্দে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে তাদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

পুরো ম্যাচে স্পেনের নেওয়া ২৭টি শটের মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু প্রতিবারই ভোজিনিয়ার অনবদ্য পারফরম্যান্সে সেই সব আক্রমণ ফিরে আসে হতাশায়। কখনো ডাইভ দিয়ে, কখনো নিখুঁত পজিশনিংয়ে, আবার কখনো অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে তিনি স্পেনকে গোলবঞ্চিত রাখেন। গোলবারের নিচে যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।

ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি আলোচিত না হলেও জাতীয় দলে ভোজিনহা দীর্ঘদিন ধরেই “ব্লু শার্কস”দের ভরসার নাম। ২০১৯ সালে সাইপ্রাস কাপ জয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়া তার ক্যারিয়ারের বড় কোনো শিরোপা নেই, তবুও জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

এর আগে, আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বেও দারুণ ফর্মে ছিল কেপ ভার্দে। গ্রুপসেরা হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় তারা, ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর পাশাপাশি অ্যাঙ্গোলা ও লিবিয়ার বিপক্ষেও জয় তুলে নেয়।

কেপ ভার্দেকে সবাই এখন চিনবে। এমনটাই মনে করেন অস্ট্রেলিয়া, টটেনহাম হটস্পার ও নটিংহাম ফরেস্টের সাবেক কোচ অ্যাঞ্জে পোস্তেকোগলু। তিনি বলছেন, “ছোট্ট একটি দেশের মানুষ বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে তারা কেপ ভার্দের নাগরিক। আর আজ সারা বিশ্ব তাদের নতুন পরিচয় একসঙ্গে চিনে নিল।”

আসলেই তাই—এই ম্যাচ শুধু একটি গোলশূন্য ড্র নয়, বরং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের পরিচয় বদলে দেওয়ার এক অসাধারণ গল্প।