হট ফেভারিট স্পেনকে রুখে দিল পুচকে কেপ ভার্দে
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্পেনকেই পরিষ্কার ফেভারিট ধরা হচ্ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই হিসাবকে অন্তত ভুল প্রমাণ করেছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি। দুর্দান্ত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অনবদ্য পারফরম্যান্সে স্পেনকে গোলশূন্য রেখেই পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল কেপ ভার্দে।
চোটের কারণে স্পেনের মূল তারকা লামিনে ইয়ামালকে এদিন শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতি স্পেনের আক্রমণভাগে স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে। সৃজনশীলতা ও গতির অভাবে বেশ কিছু সময় আক্রমণে ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে স্প্যানিশদের।
তবে প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে এসে বদলে যেতে শুরু করে ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে কেপ ভার্দের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে স্পেন। প্রথমে ফেরান তোরেস গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার জোরালো শট গিয়ে লাগে ক্রসবারে। গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হতে হয় স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ডকে। এরপর ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল হেডে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করলে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায়, তা প্রতিহত করেন ভোজিনিয়া।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক যেন আজ কেপ ভার্দের রক্ষণদুর্গের প্রধান প্রহরী। অভিজ্ঞতা ও দুর্দান্ত পজিশনিংয়ের মিশেলে একের পর এক আক্রমণ সামলে দিয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তেও স্পেনের দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। ফেরান তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
ফলে সবকিছুই স্পেনের পক্ষে থাকলেও স্কোরবোর্ডে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ভোজিনিয়ার অনবদ্য গোলকিপিং এবং কেপ ভার্দের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে ভর করে আতলান্তা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় (০-০) শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় স্পেন। একের পর এক আক্রমণে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগকে চাপে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। কারণ, গোলপোস্টের নিচে ছিলেন ভোজিনিয়া। অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক যেন একাই স্পেনের সামনে অদৃশ্য এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচজুড়ে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি দলকে বারবার বিপদমুক্ত করেন।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মাঠে নামেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে নামা এই উইঙ্গার ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক সম্পন্ন করেন। কিন্তু ইয়ামালকে নামিয়েও জালের দেখা পায়নি স্পেন।
শেষ দিকে স্পেন মরিয়া হয়ে ওঠে জয়সূচক গোলের খোঁজে। যোগ করা সময়েও তারা কেপ ভার্দের বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালায়। কিন্তু ভোজিনিয়ার নেতৃত্বে দুর্দান্ত রক্ষণভাগ সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি, আর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয় গোলশূন্য ড্র। স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ড্র তুলে নেয় কেপ ভার্দে।