মেসির ১৯ গায়ে জড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক লামিন ইয়ামালের
ম্যাচের ঘড়িতে তখন ঠিক ৭১ মিনিট। চতুর্থ রেফারির ডিজিটাল বোর্ডে লাল অক্ষরে জ্বলে উঠল বার্সা সতীর্থ গাভির ৯ নম্বর, আর তার পাশেই সবুজ অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে ১৯ নম্বর। আটলান্টা স্টেডিয়ামের গ্যালারি জুড়ে তখন দর্শকদের গগনবিদারী গর্জন। এতক্ষণ সাইডবেঞ্চে বসে থাকা স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল অবশেষে পা রাখলেন বিশ্বকাপের সবুজ ঘাসে।
তবে এই বদলি নামার মুহূর্তে কেবল একজন তরুণ প্রতিভার বিশ্বকাপ অভিষেকই দেখল না ফুটবল বিশ্ব, স্প্যানিশ ফুটবল ভক্তরা সাক্ষী হলেন এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর মেলবন্ধনের। ইয়ামাল যখন ট্র্যাকসুট খুলে মাঠে নামেন, তখন তাঁর পিঠে শোভা পাচ্ছিল ১৯ নম্বর জার্সি।
ফুটবল রোমান্টিকদের মন ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ফিরে যেতে বাধ্য হলো। সেবার হুবহু একই বয়সে, নিজের প্রথম বিশ্বকাপে পিঠে ১৯ নম্বর জার্সি জড়িয়েই আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। কাকতালীয়ভাবে, ইয়ামালের বয়সও এখন মেসির মতোই মাত্র ১৮ বছর। যাকে নিজের একমাত্র আইডল এবং ফুটবল গুরু মানেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তারই ফেলে আসা সেই ঐতিহাসিক ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামা—এ যেন এক রাজকীয় উত্তরাধিকারের গল্প।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের এই উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা হয়নি ইয়ামালের। তবে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যখন আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে বার্সা সতীর্থ গাভিকে তুলে এই বিস্ময়বালককে মাঠে নামান, তখন মাঠের কৌশলগত পরিবর্তনের চেয়েও বেশি ডানা মেলেছিল এক নস্টালজিয়া।
মেসিকে আদর্শ মেনে বড় হওয়া ইয়ামাল বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে এসে ইতিমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন। আজ আটলান্টা স্টেডিয়ামের মাঠে ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে তাঁর এই অভিষেক যেন ফুটবল বিধাতার লিখে রাখা এক নিখুঁত চিত্রনাট্য। ২০ বছর আগে ১৯ নম্বর জার্সির সেই চকমকে তরুণটি যেভাবে ফুটবল বিশ্ব শাসন করেছিলেন, আজ ঠিক একই নম্বর পিঠে জড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের মহাকাব্য লিখতে শুরু করলেন লামিন ইয়ামাল।