ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা মরক্কোর শুরুর একাদশের কারও জন্ম হয়নি নিজ দেশে
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে মরক্কো যখন মাঠ ছাড়ছিল, তখন ফুটবল বিশ্বকে বড় চমক দিয়েছে মাঠের বাইরের এক অবিশ্বাস্য তথ্য। ম্যাচের ফলের চেয়েও এখন 'টক অব দ্য ফুটবল ওয়ার্ল্ড' মরক্কোর শুরুর একাদশ ঘিরে তৈরি হওয়া এক ঐতিহাসিক ও বিরল তথ্য।
প্রখ্যাত স্পোর্টস জার্নালিস্ট ফ্যাব্রিজিও রোমানো নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জাতীয় দলের শুরুর একাদশে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের কেউই নিজ দেশে জন্মগ্রহণ করেননি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই বিরল ঘটনাটি উল্লেখ করে রোমানো তাঁর অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে জানান, ‘মরক্কো ইতিহাসে প্রথম জাতীয় দল, যাদের শুরুর একাদশের সব খেলোয়াড়ই দেশের বাইরে জন্মেছেন।’
বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। ম্যাচটিতে মরক্কোর হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইসমাইল সাইবারি, আর ব্রাজিলের পক্ষে সমতাসূচক গোলটি আসে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। তবে ম্যাচের এই ১-১ সমতার চেয়েও সবাইকে চমকে দিয়েছে মরক্কোর বহুজাতিক এই শুরুর একাদশ, যারা প্রত্যেকেই ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জন্ম নিয়েও লাল-সবুজ জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
রোমানোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোর এই শুরুর একাদশের গোলরক্ষক বোনোর জন্ম কানাডার মন্ট্রিয়ালে। রক্ষণভাগের নুসাইর মাজারাউই জন্মেছেন নেদারল্যান্ডসের লেইডারডর্পে, ইসা দিয়োপ ফ্রান্সের তুলুজে, চাদি রিয়াদ স্পেনের পালমায় এবং আশরাফ হাকিমি স্পেনের মাদ্রিদে। মিডফিল্ড ও আক্রমণের নিল এল আয়নাউই ফ্রান্সের ন্যান্সিতে, আয়্যুব বোয়াদ্দি ফ্রান্সের সেনলিতে, চেমসদিনে তালবি বেলজিয়ামের সাম্ব্রেভিলে, বিলাল এল খান্নুস বেলজিয়ামের মোলেনবেকে, সামির এল মোরাবেত ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে এবং দলের পক্ষে একমাত্র গোলদাতা ইসমাইল সাইবারি জন্মগ্রহণ করেছেন স্পেনের টারাসায়।
দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া এই ১১ জন ফুটবলারকে নিয়ে গড়া মরক্কো দল ম্যাচের শুরু থেকেই শক্তিশালী ব্রাজিলকে বেশ চাপে ফেলে দেয়। তাদের দ্রুতগতির আক্রমণ আর সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে প্রথমার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে সেলেসাওরা। এই চমৎকার ছন্দের ধারাবাহিকতায় ইসমাইল সাইবারির গোলে প্রথমে লিডও নেয় মরক্কো। তবে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তারা মরক্কোর রক্ষণদুর্গ ভাঙতে সক্ষম হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় দুই দলই ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষ করে।