১৪ জুন ২০২৬, ০১:২১

ব্রাজিলকে হারাতে যে কৌশল কাজে লাগাতে পারে মরক্কো

ব্রাজিল ও মরক্কো দলের ফুটবলাররা  © সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রবিবার (১৪ জুন) ভোরে মাঠে নামছে ব্রাজিল। তবে হেক্সা মিশনে এবার গ্রুপ পর্বে বেশ জটিলতাই পোহাতে হবে সেলেসাওদের। বিশ্বকাপ অভিযানে শুরুতেই মরক্কোর মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

এদিকে কার্লো আনচেলত্তির আগমনের পরও ব্রাজিল দলে বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে, যা প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে পারে বলে মনে করছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস। 

সবচেয়ে বড় সমস্যা দুই প্রান্তে। এখনো তারা এমন নির্ভরযোগ্য ফুল-ব্যাক জুটি পায়নি, যারা আক্রমণ ও রক্ষণে সমান কার্যকর। কখনো সেন্টার-ব্যাক এদার মিলিতাওকে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলানো হলেও এতে আক্রমণের গভীরতা কমে যায়। 

অন্যদিকে বাম দিকে অ্যালেক্স সান্দ্রো, কাইও হেনরিকে ও ওয়েনডেলকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হলেও ওয়ান-অন-ওয়ান রক্ষণে দুর্বলতা থেকেই গেছে। ফলে উইং দিয়ে আক্রমণ করলে প্রতিপক্ষ সুবিধা পেতে পারে।

এছাড়া ক্রস থেকে আসা বল ও ‘সেকেন্ড বল’ সামলানোর ক্ষেত্রেও ব্রাজিলের মনোযোগের ঘাটতি দেখা যায়। কর্নারে তাদের মিশ্র মার্কিং ব্যবস্থা অনেক সময় পেনাল্টি বক্সে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে, যা প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ কাজে লাগাতে পারে।

ব্রাজিলকে মোকাবিলায় প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত তাদের উইঙ্গারদের নিষ্ক্রিয় করা। ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনহাকে জায়গা বা সময় না দিয়ে ডুয়েল মার্কিংয়ের মাধ্যমে চাপে রাখতে হবে। একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার নিয়মিত ফুল-ব্যাককে সহায়তা করলে তাদের প্রভাব কমানো সম্ভব।

বাম প্রান্তে আক্রমণ বাড়ানোও কার্যকর হতে পারে। ভিনিসিয়াস রক্ষণে খুব বেশি সাহায্য করেন না এবং পজিশনিংয়েও দুর্বল। ফলে ওই দিক দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ চালালে ব্রাজিলের একজন মিডফিল্ডারকে কভার দিতে সরে আসতে হবে, যা মাঝমাঠে ফাঁকা জায়গা তৈরি করবে।

এ ছাড়া বলের দখল ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। দ্রুতগতির উন্মুক্ত খেলায় ব্রাজিল ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তাই ধীরগতির পাসিং ফুটবল তাদের আক্রমণাত্মক শক্তি কমিয়ে দিতে পারে।
সেট-পিসেও সুযোগ রয়েছে। কর্নার ও ফ্রি-কিকে তাদের মিশ্র মার্কিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ধাপের মুভমেন্টের মাধ্যমে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে গোলের সুযোগ নেওয়া সম্ভব।