রেকর্ডবুকে নতুন করে নাম লেখালেন লিওনেল মেসি
বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে আবারও ইতিহাসে নাম লেখালেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বদলি হিসেবে নেমেই গোল করে প্রায় ৭০ বছর পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়েন এই তারকা ফুটবলার।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্ন শহরের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন তরুণ ডিফেন্ডার ভ্যালেন্তিন বারকো। তার গোলে প্রথমার্ধেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে আর্জেন্টিনা।
খেলার ঘড়িতে তখন ৬৯ মিনিট ৪ সেকেন্ড। জিউলিয়ানো সিমেওনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ১৯৯তম ম্যাচ। মাঠে নামার মাত্র ৫৩ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি খেলায় প্রভাব ফেলেন। একটি নিখুঁত পাসে লাউতারো মার্তিনেজকে সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। মার্তিনেজ বক্সে শট নেওয়ার সময় ফাউলের শিকার হলে রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
পেনাল্টি নিতে এসে ভুল করেননি মেসি। শক্তিশালী কোণাকুণি শটে বল জালে পাঠান তিনি। আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক এলিয়াস রাফিন ওলাফসন সেই শট ঠেকাতে পারেননি। ৭১ মিনিট ৩ সেকেন্ডে করা এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭-এ। একই সঙ্গে তিনি ভেঙে দেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ড। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি ছাড়িয়ে যান অ্যাঞ্জেল লাব্রুনাকে। লাব্রুনা ১৯৫৭ সালে ‘কোপা রোকা’ টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
ম্যাচ শুরুর আগেই অবশ্য মেসিকে ঘিরে ছিল আলাদা আলোচনা। গত ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বাম পায়ের পেশিতে চোট পান। তবে চোট গুরুতর না হওয়ায় দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারেন তিনি। এই ম্যাচ দিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করেন, বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
শেষ পর্যন্ত আইসল্যান্ডকে ৩–০ গোলে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তৃতীয় গোলটি করেন আলমাদা। ম্যাচের ভ৮৬ মিনিটে দারুণ এক গোল করেন এই তারকা ফুটবলার।