২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে ৫ রোমাঞ্চকর তথ্য, যা ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে
দরজায় কড়া নাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক এই মহারণের আর প্রায় ৭২ ঘণ্টা বাকি। তবে, আগামী ১১ জুন থেকে মাঠে গড়াতে যাওয়া এবারের আসরটি আগের সব সংস্করণের চেয়ে কেবল বড়ই নয়, বরং নানা দিক থেকেও অনন্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এমনই পাঁচটি মূল বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:
৪৮ দলের নতুন রূপরেখা: কাতার বিশ্বকাপের ৩২ দলের প্রথা ভেঙে এবারই প্রথমবার ৪৮টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। দল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল আয়তন সামলাতে টুর্নামেন্টের স্থায়িত্বও ৩৯ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তিন দেশের যৌথ আয়োজন: ফুটবলের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ মিলে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ১৬টি স্বাগতিক শহরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনালের সিংহভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এজটেকা স্টেডিয়ামের অনন্য রেকর্ড: ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে মেক্সিকোর বিখ্যাত ‘এজটেকা স্টেডিয়াম’। বিশ্বের প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের বিরল রেকর্ড গড়বে এই স্টেডিয়ামটি। ১৯৭০ সালে পেলে এবং ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার রাজত্ব দেখার পর, এবার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে ফের পাদপ্রদীপের আলোয় ফিরছে ঐতিহাসিক এই ভেন্যুটি।
তীব্র গরমের ঝুঁকি ও উদ্বেগ: এবার খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে জুন-জুলাইয়ের তীব্র তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ বিপজ্জনক গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। এই সংকট মোকাবিলায় ফিফা বিশেষ ‘কুলিং ব্রেক’ বা শীতল হওয়ার বিরতির পরিকল্পনা রাখলেও, একে পরিস্থিতির তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘সুপার বোল’ স্টাইলে ফাইনাল: বিশ্বকাপের ফাইনালকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় ফিফা। আমেরিকার জনপ্রিয় ‘সুপার বোল’র আদলে ফাইনালে এবার বিশাল আয়োজন থাকছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে হাফটাইমে বা বিরতির সময় কনসার্টে শাকিরা, ম্যাডোনা এবং বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS) অংশ নেবেন। ফাইনাল ম্যাচটি যে কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন উৎসবে পরিণত হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।