০৫ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরবেন যে ৪৮ ফুটবলার

কোলাজ ছবি   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতীকগুলোর একটি হলো ‘১০ নম্বর জার্সি’। সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এই নম্বর সাধারণত দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্লে-মেকার বা আক্রমণাত্মক তারকাকে দেওয়া হয়। ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি দল থেকেই একজন করে ফুটবলার এই ঐতিহ্যবাহী জার্সি গায়ে চাপাবেন—যেখানে যেমন আছেন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি, তেমনি আছেন নতুন প্রজন্মের প্রতিভাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ নম্বর জার্সি শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি দায়িত্ব—যেখানে খেলোয়াড়কে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, আক্রমণ সাজানো এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে হয়। এবারের বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পাওয়া ফুটবলারদের তালিকা তাই বিশেষভাবে আলোচিত।

প্রধান তারকারা

কিলিয়ান এমবাপ্পে - ফ্রান্স
রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হবেন। তিনি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ জিতেছেন এবং টানা দুইটি ফাইনাল খেলেছেন। এবার তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন। বর্তমানে এই রেকর্ডটি মিরোস্লাভ ক্লোসের (১৬ গোল) দখলে, আর এমবাপ্পের গোল সংখ্যা ১৩।

লিওনেল মেসি - আর্জেন্টিনা
কাতার ২০২২-এ শিরোপা জয়ের পর এবার তিনি সেই শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবেন। অসাধারণ ক্যারিয়ার এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমানের পারফরম্যান্সের কারণে তিনি মহাতারকা বনে গেছেন। এটি তার শেষ বিশ্বকাপও হতে পারে। বিশ্বকাপে আরও অনেক রেকর্ড তার সামনে অপেক্ষা করছে।

জামাল মুসিয়ালা - জার্মানি
বায়ার্ন মিউনিখের এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জার্মানির নতুন প্রজন্মের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। তার সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার দক্ষতা তাকে বিশেষ করে তুলেছে। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি জার্মানির বিশ্বকাপ স্বপ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

দানি ওলমো - স্পেন
বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার স্পেনের আক্রমণভাগে বড় ভূমিকা রাখার মতো একজন খেলোয়াড়। জায়গা বুঝে খেলা, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা তাকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। স্পেন তাকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা রাখছে।

বার্নার্দো সিলভা - পর্তুগাল
ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার আবারও বিশ্বকাপে পর্তুগালের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ হয়ে উঠবেন। তিনি দলের নেতৃত্বের দায়িত্বও ভাগাভাগি করবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে। তার পাসিং, ভিশন এবং নিয়ন্ত্রণ পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মার্কাস র‍্যাশফোর্ড - ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বিশ্বকাপে নিজের প্রভাব আরও বাড়াতে চান। কাতার বিশ্বকাপে তিনি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন, বিশেষ করে গোল করার ক্ষেত্রে কার্যকর ছিলেন। তার গতি এবং ফিনিশিং ইংল্যান্ডের বড় অস্ত্র হতে পারে।

নেইমার জুনিয়র - ব্রাজিল
ইনজুরির কারণে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও নেইমার ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হিসেবে থাকছেন। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়ের পথে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান।

আলেক্সিস ভেগা - মেক্সিকো
মেক্সিকোর আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। বর্তমান ফর্মে থাকা এই খেলোয়াড় নিজ দেশের দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। কাতার বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর এবার তিনি দলকে ভালো কিছু এনে দিতে চান।

ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক - যুক্তরাষ্ট্র
নিজ দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভরসা হবেন পুলিসিক। মিলানের এই ফরোয়ার্ড তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের একটি পার করছেন। তার গতি, স্কিল এবং অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ে সাহায্য করবে।

জোনাথন ডেভিড - কানাডা
জুভেন্টাসের এই স্ট্রাইকার ইউরোপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। স্বাগতিক হিসেবে কানাডা তার গোল করার ক্ষমতার ওপর অনেকটা নির্ভর করবে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়।

গ্রুপভিত্তিক ১০ নম্বর জার্সিধারীরা

গ্রুপ A:
লি জে-সুং (দক্ষিণ কোরিয়া), আলেক্সিস ভেগা (মেক্সিকো), প্যাট্রিক শিক (চেক প্রজাতন্ত্র), রেলেবোহিলে মোফোকেং (দক্ষিণ আফ্রিকা)

গ্রুপ B:
জোনাথন ডেভিড (কানাডা), এরমেদিন দেমিরোভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা), হাসান আল-হায়দোস (কাতার), গ্রানিত জাকা (সুইজারল্যান্ড)

গ্রুপ C:
নেইমার জুনিয়র (ব্রাজিল), চে অ্যাডামস (স্কটল্যান্ড), জ্যঁ-রিকনার বেলগার্দে (হাইতি), ব্রাহিম দিয়াজ (মরক্কো)

গ্রুপ D:
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (যুক্তরাষ্ট্র), আজদিন হ্রুস্তিচ (অস্ট্রেলিয়া), মিগুয়েল আলমিরন (প্যারাগুয়ে), হাকান চ্যালহানোউলু (তুরস্ক)

গ্রুপ E:
জামাল মুসিয়ালা (জার্মানি), সাইমন আদিংরা (আইভরি কোস্ট), লিয়ান্দ্রো বাকুনা (কুরাসাও), কেন্দ্রি পায়েজ (ইকুয়েডর)

গ্রুপ F:
মেমফিস ডিপাই (নেদারল্যান্ডস), রিতসু দোআন (জাপান), বেনজামিন নাইগ্রেন (সুইডেন), হানিবাল মেজব্রি (তিউনিসিয়া)

গ্রুপ G:
লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড (বেলজিয়াম), মোহাম্মদ সালাহ (মিশর), মেহদি ঘায়েদি (ইরান), সারপ্রিত সিং (নিউজিল্যান্ড)

গ্রুপ H:
দানি ওলমো (স্পেন), জর্জিয়ান দে আরাস্কায়েতা (উরুগুয়ে), সালেম আল-দাওসারি (সৌদি আরব), জামিরো মন্টেইরো (কেপ ভার্দে)

গ্রুপ I:
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স), আলি মোহানাদ (ইরাক), মার্টিন ওডেগার্ড (নরওয়ে), সাদিও মানে (সেনেগাল)

গ্রুপ J:
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), ফারেস শাইবি (আলজেরিয়া), ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ (অস্ট্রিয়া), মুসা আলতামারি (জর্ডান)

গ্রুপ K:
বার্নার্দো সিলভা (পর্তুগাল), জেমস রদ্রিগেজ (কলম্বিয়া), থিও বংগোন্ডা (ডিআর কঙ্গো), জলোলিদ্দিন মাশারিপভ (উজবেকিস্তান)

গ্রুপ L:
লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া), জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড), ব্র্যান্ডন থমাস-অ্যাসান্তে (ঘানা), ইসমাইল দিয়াজ (পানামা)