০৫ জুন ২০২৬, ১৭:০৫

রাতে সান মারিনোর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, দেখবেন যেভাবে

হামজা-শমিত সোম   © টিডিসি ফটো

২৫ বছর পর আবারও ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দীর্ঘ এই বিরতির পর আজ রাতে সেরাভেলের সান মারিনো স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোর বিপক্ষে মাঠে নামবে হামজা–শমিতরা। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়। ম্যাচটি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। 

২০০১ সালে সাহারা কাপে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে খেলার পর আর কোনো ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে মাঠে নামেনি বাংলাদেশ। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে। একই সঙ্গে ২৬ বছর পর ইউরোপের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ ২০০০ সালের জুলাইয়ে লেস্টারে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।

নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটিই বাংলাদেশের প্রথম বড় পরীক্ষা। এর আগে ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ—যুগোস্লাভিয়া ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে—দুটিতেই হেরেছিল দলটি।

ইউরোপীয় ফুটবল মানেই আধুনিক কৌশল, উচ্চগতির খেলা এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে এই ম্যাচে প্রতিপক্ষ সান মারিনো ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের একেবারে শেষ (২১১তম) অবস্থানে থাকা দল। তাদের স্কোয়াডের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই পেশাদার ফুটবলার নন, বরং ভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত।

দলের অধিনায়ক মাত্তেও ভিতাইওলি গ্রাফিক ডিজাইন ও প্রিন্টিং খাতে কাজ করেন। মাঝমাঠের আলেসান্দ্রো গোলিনুচ্চি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত, আর তার ভাই এনরিকো গোলিনুচ্চি আইটি বিশেষজ্ঞ। ডিফেন্ডার দান্তে রোসি একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবার কাজ করেন।

তবে প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল হলেও বাংলাদেশ তাদের হালকাভাবে নিচ্ছে না। ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, ‘এই দল সম্পর্কে আমরা আগে তেমন জানতাম না। এখন কিছু জানাশোনা হচ্ছে। তারা ইউরোপের মধ্যে বড় বড় দলের বিপক্ষেই বেশি খেলে। এ জন্যই হয়তো তাদের র‌্যাঙ্কিংয়ে একেবারে শেষে। খাতা–কলমের হিসাব দেখাটা ঠিক হবে না। আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।’

গোলরক্ষক সুজন হোসেন বলেন, ‘র‍্যাঙ্কিং কোনো বিষয় নয়। অনেক ছোট দলও ভালো ফুটবল খেলে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

বাংলাদেশ র‍্যাঙ্কিংয়ে (১৮১তম) এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটিকে সহজ ভাবছে না দল। বিশেষ করে নতুন কোচের অধীনে দল এখন পরিবর্তনের সময় পার করছে।

সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেন, ‘খেলোয়াড়দের এখন নতুন কোচের টেকনিকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এটা একটা ট্রানজিশন সময়। ডুলি সিম্পল ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন, যেমন বলের পজেশন ঠিক রেখে একসঙ্গে আক্রমণে যাওয়া। এগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

সব মিলিয়ে ২৫ বছর পর ইউরোপে বাংলাদেশের এই ম্যাচ কেবল একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং নতুন কোচের অধীনে নতুন যাত্রারও সূচনা। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেরাভেলের মাঠে—হামজা–শমিতদের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায়।