বয়সে ক্রিশ্চিয়ানোকেও ছাড়িয়েছে ক্রেগ গর্ডন, বিশ্বকাপে কাঁপাবেন চল্লিশোর্ধ ৮ খেলোয়াড়
বরাবরের মতো এবার জমে উঠেছে আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আলোচনা। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক ৪৮ দল। সবচেয়ে বেশি ১০৪টি ম্যাচ শেষে নিশ্চিত হবে চ্যাম্পিয়নশিপ। ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে সবগুলো দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড বাছাই। তবে এবারের বিশ্বকাপে সকল আলোচনার ঊর্ধ্বে রয়েছে তারকাদের বয়সের কথা।
এবারের আসরে তারকাদের কেউ কেউ মাঠে নামবেন ৪০ বা তার বেশি সংখ্যার বয়স নিয়ে। বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে বড় স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন। আসন্ন বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ খেলবেন ৪৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স ছাড়িয়েছে ৪১। তার পরের অবস্থানেই আছে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মাদ্রিচ। তার বয়স পেরিয়েছে ৪০।
চল্লিশের সারিতে রয়েছে আরও পাঁচ খেলোয়াড়। তারা হলেন- মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়া, বসনিয়ার এদিন জেকো, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ার, কেপ ভার্দের ভো জিনহা, উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা। এছাড়া চল্লিশ ছুঁই ছুঁই আছেন ৩৯ বছর বয়সী কোস্টারিকার কেইলর নাভাস, ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি, হাইতির জনি প্লাসিড।
প্রচলিত আছে খেলাধুলা থেকে অবসরের বয়স ৪০। কিন্তু অভিষেকই হচ্ছে ৪৩ বছর বয়সে। স্কটল্যান্ডের গোল রক্ষক ক্রেগ গর্ডন এখন পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেননি। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত স্কটল্যান্ডের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
যদি তিনি এই বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে মাঠে নামেন, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়বেন। স্কটল্যান্ড ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
৪২ বছর বয়সেও পর্তুগালের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে মাঠে নামবেন ৫টি ব্যালন ডি'অর জয়ী খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১২ শ’র বেশি পেশাদার ম্যাচে অংশগ্রহণ এবং ক্লাব ও দেশের হয়ে ৯৪৬টি গোল করার কৃতিত্বও রয়েছে তার। ১০০টি আন্তর্জাতিক গোল করা দ্বিতীয় পুরুষ এবং প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলারও তিনি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে কোনো অর্জন না থাকা পর্তুগালের আশার আলো হিসেবে ষষ্ঠ বারের মতো এবারের আসরে দেখা যাবে এই তারকাকে।
ক্রোয়োশিয়াকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠানো এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করানো অধিনায়ক লুকা মাদ্রিচ। ৪০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় এবারের আসরে নিজ দলের হয়ে মাঠ মাতাবেন। নিজের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপের এই আসরে তার প্রতি প্রত্যাশার শেষ নেই সতীর্থদের।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অধিকারী মেক্সিকান কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। এবারের বিশ্বকাপ আসরে ইতিহাস গড়ে তিনি মেক্সিকোর হয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন।
বসনিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অধিনায়ক এদিন জেকো। এবারের আসরেও বসনিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন চল্লিশোর্ধ্ব এই স্ট্রাইকার।
জার্মানি এবং বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর ইউ-টার্ন নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য জার্মান জাতীয় দলের গোলরক্ষক হিসেবে স্কোয়াডে ফিরেছেন তিনি।
ভো জিনহার আসল নাম জোসিমার জোস এভোরা ডিয়াস। ৪০ বছর বয়সী এই নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক কেপ ভার্দে জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এবারের বিশ্বকাপেও মাঠে নেমে গোল রক্ষার কাজ করবেন তিনি।
ফার্নান্দো মুসলেরা উরুগুয়ের হয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দলে ডাক পাওয়ার মাধ্যমে প্রথম উরুগুয়ান খেলোয়াড় হিসেবে ৫টি বিশ্বকাপ আসরের দলে থাকার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে উরুগুয়েকে চ্যাম্পিয়ন করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন এই গোলরক্ষক।
বিশ্বকাপের গেল আসর শেষ হবার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মেসির অবসর। ক্রীড়াপ্রেমীদের ধারণা ছিল বিশ্বকাপ জয় তো শেষ, এবার হয়ত কিংবদন্তির অবসরের ঘোষণার পালা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এবারের বিশ্বকাপেও নিজ দলের হয়ে ষষ্ঠ বারের মতো মাঠ মাতাবেন আর্জেন্টিনার এ জীবন্ত কিংবদন্তি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ম্যাচ খেলে ১৩ গোল রয়েছে তার। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুবার 'গোল্ডেন বল' জয়ের রেকর্ডটাও তার দখলে। ৮টি ব্যালন ডি'অরও রয়েছে তার অর্জনের ঝুলিতে।
‘বয়স শুধুই একটা সংখ্যা’ রোনালদো, লিওনেল মেসি যেন উদাহরণ এই কথার। দুজনেই এবার খেলতে যাচ্ছেন ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ। এই বয়সেও দুর্দান্ত খেলছেন তারা। ২০২৬ বিশ্বকাপই সম্ভবত তাঁদের শেষ আসর। শেষ আসরের চমক দেখার অপেক্ষায় ক্রীড়াপ্রেমীরা।