দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়ল পিএসজি
ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন (পিএসজি)। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় থাকায় শিরোপা নির্ধারণ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবার ইউরোপসেরা হয়েছিল পিএসজি। অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তায় এগিয়ে থেকে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে প্যারিসের ক্লাবটি। তবে ফাইনালের শুরুটা অবশ্য ছিল আর্সেনালের। ম্যাচের শুরুতেই পিএসজির অধিনায়ক মার্কিনহোসের একটি ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। জার্মান মিডফিল্ডার প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়ে কঠিন কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালের ছাদে পাঠিয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধে সেই লিড ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়াতে থাকে পিএসজি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেওয়ার পর অবশেষে ভুল করে বসে আর্সেনালের রক্ষণভাগ। পেনাল্টি বক্সে খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করেন ক্রিসথিয়ান মস্কেরা। ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি উসমান দেম্বেলে। স্পট কিক থেকে ডেভিড রায়াকে ভুল পথে পাঠিয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। এরপর নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম শটেই গোল করেন পিএসজির গন্সালো রামোস এবং আর্সেনালের ভিক্টর গিওকেরেস। দ্বিতীয় শটে দুই দলই সফল হয়। তবে তৃতীয় শটে আর্সেনালের এবেরেচি এজে বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দলকে চাপে ফেলেন। যদিও নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আর্সেনালকে আশা দেখান গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। এরপর ডেকলান রাইস গোল করলেও পিএসজির হয়ে আশরাফ হাকিমি জাল কাঁপান।
গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি নিজের শট থেকে গোল আদায় করেন, কিন্তু লুকাস বেরালদি পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোল করলে পাল্লা আবারও ভারী হয়ে যায় ফরাসি দলের দিকে। শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠে পিএসজি।
এ জয়ে ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামে প্রতিযোগিতার পুনর্গঠনের পর রিয়াল মাদ্রিদের (২০১৬-১৮) পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুটি শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়ল পিএসজি। পাশাপাশি ১৯৫৫ সালে ইউরোপিয়ান কাপ শুরুর পর ইতিহাসের ১০ম ক্লাব হিসেবে পরপর দুই মৌসুমে ইউরোপসেরার মুকুট জয়ের নজির স্থাপন করল তারা।
অন্যদিকে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠা আর্সেনালের জন্য এটি আরেকটি হৃদয়ভাঙা রাত। দুই দশক আগে বার্সেলোনার কাছে হারার পর এবারও ফাইনালে এসে স্বপ্নভঙ্গ হলো গানারদের। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ট্রফি জয়ের অপেক্ষা তাই আরও দীর্ঘ হলো উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির।