৩০ মে ২০২৬, ১৪:৪২

রোনালদোকে ছাড়াই পর্তুগাল বেশি শক্তিশালী, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক তুঙ্গে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো   © সংগৃহীত

দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে এর আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্য পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্তুগিজ এই অধিনায়ক। ঠিক এমনই মুহূর্তে এক বিখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক দাবি করেছেন, রোনালদোকে মাঠের বাইরে রেখে খেললে আরও ভালো পারফর্ম করতে পারে পর্তুগাল।

রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক এই মন্তব্যটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ও বর্তমান ইএসপিএন বিশ্লেষক টেইলর টোয়েলম্যান। ইএসপিএনে আলোচনা চলাকালীন বিশ্বকাপের পর্তুগাল দল নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে কোনো রকম খোলস না রেখেই নিজের মতামত জানান তিনি।

সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছেন, "বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চারপাশে থাকা পর্তুগালের সেরা দল। তবে আমি মনে করি, রোনালদো যদি না খেলেন, তবেই পর্তুগাল তাদের সেরা ফর্মে থাকবে।"

তার এই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন রোনালদো তার কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা ট্রফিটি জয়ের শেষ মিশনে নামছেন।

টোয়েলম্যানের এই যুক্তিকে যারা সমর্থন করছেন, তারা পর্তুগাল দলের বর্তমান শক্তির গভীরতার দিকেও আঙুল তুলছেন। আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবার আর সমস্ত আক্রমণের দায়িত্ব একা রোনালদোর কাঁধে নেই। কোচ রবার্তো মার্তিনেজের হাতে এখন ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেড্রো নেতো এবং গনসালো রামোসের মতো বিশ্বমানের আক্রমণভাগের বিকল্প রয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মের এই আক্রমণাত্মক গভীরতা ও কৌশলী নমনীয়তার কারণে অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, পর্তুগাল যদি একক নির্ভরতা কমিয়ে দলগত পাসিং ফুটবল খেলে, তবে তারা বেশি উপকৃত হবে। বিশেষ করে রোনালদোর বর্তমান বয়স যখন ৪১ বছর, তখন এই আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, পর্তুগিজ সমর্থকদের জন্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে শুরুর একাদশের বাইরে কল্পনা করা বেশ কঠিন। 

আল-নাসরের এই সুপারস্টার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি যেখানে গত আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে নামছেন, সেখানে রোনালদো এখনও তার ক্যারিয়ারের সেই মহিমান্বিত বিশ্বকাপ মুহূর্তটির খোঁজে রয়েছেন।

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অবশ্য বরাবরই তার অধিনায়কের পাশেই দাঁড়িয়েছেন এবং রোনালদোর নেতৃত্বকে দলের পরিচয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এবারের বিশ্বকাপে কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) গ্রুপে থাকা পর্তুগাল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই যাত্রা শুরু করবে। তবে রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক সহজে থামার নয়। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই কোচ মার্তিনেজের প্রতিটি লাইন-আপ, খেলোয়াড় পরিবর্তন এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত থাকবে আতশিকাঁচের নিচে।

মতভেদ যতই থাকুক না কেন, একটি বিষয় নিশ্চিত—২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের সেই অধরা ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখার শেষ সুযোগ।