২৯ মে ২০২৬, ১২:৩৯

আলোচনায় থাকলেও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে নেই যেসব তারকা

কোলাজ ছবি   © টিডিসি সম্পাদিত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনা তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে  । মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনির দল পর দল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও দলে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের একাধিক সদস্যের পাশাপাশি কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ ও ফর্মে থাকা খেলোয়াড়ও স্কোয়াডের বাইরে থাকায় আর্জেন্টিনার দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লিওনেল স্কালোনির এই সিদ্ধান্তে সমর্থকদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে বাদ পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো। দেশটির অন্যতম সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসেবে তাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। তার বাদ পড়ার কারণ হিসেবে মূলত অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং দলে বিদ্যমান খেলোয়াড়দের স্থিতিশীল পারফরম্যান্সকে সামনে আনা হয়েছে। স্কালোনির পরিকল্পনায় এখনকার ভারসাম্য ও ম্যাচ-রেডি ফুটবলারদের অগ্রাধিকার পেয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ উইঙ্গার ও ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আনহেল ডি মারিয়ার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার অবসরের পরও ফেরার গুঞ্জন থাকলেও স্কালোনি তাকে দলে রাখেননি। বয়স, শারীরিক চাপ এবং নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্তই তার বাদ পড়ার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মার্কোস আকুনাও এবার স্কোয়াডের বাইরে। ৩৪ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক দীর্ঘদিন ধরেই মাংসপেশির ইনজুরিতে ভুগছেন। মৌসুমজুড়ে একাধিকবার চোটে পড়ায় তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে বড় প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে মৌসুমের শেষ ম্যাচগুলোতে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে ওই পজিশনে তুলনামূলক ফিট খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করেছেন স্কালোনি।

মিডফিল্ডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে দারুণ ফর্মে থাকলেও তিনি স্কোয়াডে জায়গা পাননি। তার জায়গায় অভিজ্ঞ জিওভানি লো সেলসোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। স্কালোনির বিবেচনায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সিস্টেমে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। বুয়েন্দিয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং দীর্ঘ বিরতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরেক বড় নাম পাওলো দিবালা, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, এবারও দলে জায়গা পাননি। রোমার এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে জোর আলোচনা থাকলেও কোচ স্কালোনি তাকে প্রাথমিক ৫৫ জনের তালিকাতেই রাখেননি। মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইনজুরি সমস্যা এবং ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক মৌসুমে হাঁটুর অস্ত্রোপচার ও ফিটনেস অনিশ্চয়তার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। যদিও শেষ দিকে রোমার হয়ে কিছু ভালো পারফরম্যান্স ছিল, কিন্তু ততক্ষণে স্কোয়াড প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

স্কালোনি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেন, ‘পাওলো যে দারুণ খেলোয়াড়, সেটা আলাদা করে বলার দরকার নেই। তার দলের হয়ে সে অসাধারণভাবে ফিরে এসেছে। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তারা (রোমা) চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও জায়গা পেয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটাই হয় সবসময়: তরুণ খেলোয়াড়রা উঠে আসে, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের জায়গা পাকা করে নেয়। তারা সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। তাই আমরা অন্যদের নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

রক্ষণভাগে আলোচনায় ছিলেন মার্কোস সেনেসি। বোর্নমাউথের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেও তাকে চূড়ান্ত দলে রাখা হয়নি। মূলত স্কালোনির কৌশলগত পরিকল্পনা এবং একই পজিশনে থাকা অভিজ্ঞ ও বহুমুখী খেলোয়াড়দের উপস্থিতিই তার বাদ পড়ার কারণ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই জায়গায় স্কালোনি বেশি ডিফেন্সিভ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

আরেক তরুণ নাম জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি, যিনি বেনফিকার হয়ে দারুণ সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন, তিনিও বাদ পড়েছেন। ইউরোপীয় ম্যাচে বিতর্কিত আচরণ এবং শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার কারণে তার অবস্থান আরও দুর্বল হয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার অভাবও তার জন্য বড় বাধা ছিল।

সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন আলেহান্দ্রো গার্নাচোও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাননি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই উইঙ্গারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হলেও জাতীয় দলে এখনই তার জায়গা হয়নি। স্কালোনির দলে উইং পজিশনে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় তাকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এছাড়া তার ধারাবাহিকতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা নিয়ে কোচিং স্টাফের কিছু প্রশ্ন রয়েছে বলেও জানা যায়।

সবশেষে আলোচনায় থাকা মাতিয়াস সুলে ছিলেন চূড়ান্ত তালিকার খুব কাছাকাছি। রোমার হয়ে ৪২ ম্যাচে ৭ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করা এই ফরোয়ার্ডকে স্কালোনির ‘ভার্টিক্যাল ফুটবল’ ধারণার সঙ্গে মানানসই মনে করা হলেও ইনজুরি সমস্যা এবং একই ধরনের খেলোয়াড় নিকো পাজের উপস্থিতি তার জায়গা কেড়ে নেয়। কোচিং স্টাফ মনে করেছে, এখনই তাকে বিশ্বকাপের চাপের মধ্যে না নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করাই ভালো সিদ্ধান্ত।

স্কালোনির দলে পরিবর্তনের এই ঢেউ মূলত একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে—অভিজ্ঞতা, ফিটনেস এবং কৌশলগত ভারসাম্যই এখন আর্জেন্টিনার মূল অগ্রাধিকার। ফলে আলোচনায় থাকা একাধিক তারকা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলে জায়গা হয়নি তাদের।