২৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৫

বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি বল ‘ট্রিওন্ডা’, পাকিস্তানে তৈরি বলটিতে থাকছে চার্জের ব্যবস্থা ও চমকানো সব প্রযুক্তি

ফুটবল বিশ্বকাপের বল অ্যাডিডাসের তৈরি ‘ট্রিওন্ডা’  © ইন্টারনেট

দরজায় কড়া নাড়ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ-২০২৬। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় শো-পিস ইভেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডাজুড়ে চলবে ৪৮ দেশের লড়াই। এবার বিশ্বকাপের বলটিও ঐতিহাসিক! ফিফার সহযোগিতায় অ্যাডিডাসের তৈরি ‘ট্রিওন্ডা’।

এর মধ্যে রয়েছে এক যুগান্তকারী কানেক্টেড-বল প্রযুক্তি। এতে উত্তর আমেরিকার তিন দেশই ফুটে উঠবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য সান’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বলের দাম ১৭৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের প্রায় ২১ হাজার ৩০০ টাকার সমান। চলুন এবারের বিশ্বকাপের বল ‘ট্রিওন্ডা’র সঙ্গে আলাপ সেরে নেওয়া যাক।

বলটির নাম কেন ‘ট্রিওন্ডা’ রাখা হয়েছে?
স্প্যানিশ ভাষায় ‘ট্রিওন্ডা’ শব্দের অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’, যা মূলত আয়োজক তিন দেশকেই নির্দেশ করে। বলটিতে তিনটি ভিন্ন রং দেখা যাচ্ছে। নীল আমেরিকার, লাল কানাডার ও সবুজ মেক্সিকোর প্রতিনিধিত্ব করছে। এছাড়া বলে কানাডার প্রতীক হিসেবে ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর প্রতীক একটি ঈগল এবং আমেরিকার প্রতীক হিসেবে স্টার যুক্ত করা হয়েছে। 

বলে সোনালি রঙের কারুকাজও রয়েছে। এক বিবৃতিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপ ছাব্বিশের অফিসিয়াল ম্যাচ বল অবশেষে এসে পৌঁছেছে। এটি সত্যিই এক অসাধারণ সুন্দর সৃষ্টি! ট্রিওন্ডাকে সবার সামনে তুলে ধরতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। 

তিনি বলেন, অ্যাডিডাস ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আরও একটি আইকনিক বল তৈরি করেছে; যার নকশায় আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও উদ্দীপনার প্রতিফলন ঘটেছে। এ বলটি জালের ভিতর আছড়ে পড়তে দেখার জন্য আমার আর তর সইছে না। সর্বকালের সেরা ফিফা বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে এবং বল এখন গড়িয়ে চলেছে!

‘ট্রিওন্ডা’র নতুন নকশা
‘ট্রিওন্ডা’ বল চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি, যা কেন্দ্রের বিন্দুতে যুক্ত হয়ে একটি ত্রিভুজাকার নকশা গঠন করে। বলের গায়ে গভীর খাঁজ বা ‘সিম’ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল বলের ফ্লাটই স্টেবিলিটি বাড়ানো এবং বাতাসের মধ্য দিয়ে ভেসে যাওয়ার সময় বলের ওপর সমভাবে বায়ুর বাধা বা ড্র্যাগ বজায় রাখা। 

ফিফার দাবি, বলের ওপরের অংশে খোদাই করা বিশেষ প্রতীক বা আইকনগুলো ভেজা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ড্রিবলিং এবং শট নেওয়ার সময় বলের ওপর খেলোয়াড়ের নিয়ন্ত্রণ বা গ্রিপ উন্নত করবে। ‘ট্রিওন্ডা’ তৈরি করেছে পাকিস্তানের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’।

শিয়ালকোটের ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা ২০২২ বিশ্বকাপের বল ‘আল-রিহলা’ ও বানিয়েছিল। বিশ্বের তাবড়া আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পাক প্রতিষ্ঠান বল বানিয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফুটবল প্রস্তুতকার সংস্থা ফরোয়ার্ড স্পোর্টস। বিশ্বের তাবড় ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম সাপ্লায়ারও। 

‘ট্রিওন্ডা’র প্রযুক্তিও চমকে দিয়েছে
‘ট্রিওন্ডা’র বিরাট প্রযুক্তিগত সংযোজন হয়েছে। এর ভেতর রয়েছে ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর চিপ, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা রেকর্ড করে এবং বলের সংস্পর্শের সুনির্দিষ্ট স্থান, গতিবেগ, গতিপথ বা ট্রাজেক্টরি, ঘূর্ণন এবং দিক নির্ণয় করতে সক্ষম। অ্যাডিডাসের তৈরি এ সেন্সরের ওজন প্রায় ১৪ গ্রাম এবং এটি সরাসরি বলের বাইরের প্যানেলগুলোর একটির ভিতরে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: মেসিকে অধিনায়ক করেই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বাদ কাতার বিশ্বকাপজয়ী তারকা

বলের বাউন্স, ওজন, স্পর্শানুভূতি কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। এমনকী কিক বা হেড করার সময় খেলোয়াড়রাও সেন্সরের উপস্থিতি বিন্দুমাত্র টের পাবেন না। যেহেতু ম্যাচের পুরো সময় জুড়ে সেন্সরগুলি অবিরাম চলবে, তাই ম্যাচ শুরুর আগে চার্জ দিতে হবে।

একবার ফুল চার্জ দিলে বলগুলি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সচল থাকে। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের গা ঘামানো থেকে শুরু করে খেলার পুরো সময় জুড়ে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়।

‘ট্রিওন্ডা’ ভিএআর প্রযুক্তিকে কীভাবে সহায়তা করে?
‘ট্রিওন্ডা’র অভ্যন্তরীণ সেন্সরটি বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে ইনস্টল করা হাই-স্পিড ক্যামেরাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে, যা ফুটবলারদের নড়াচড়া বা গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। বল থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ত্রিমাত্রিক মডেলেই রিয়াল-টাইমে দেখার সুযোগ করে দেবে। 

জানা গেছে, এ নতুন ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ বার প্রতিটি খেলোয়াড় এবং বলের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে ভিএআর অফসাইড এবং বলের স্পর্শজনিত ঘটনাগুলো সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুততার সঙ্গে গ্রহণ করতে পারবে। খবর: জি নিউজ।