উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রেকর্ড গড়লেন মেসি
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগেই নতুন রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি আসরে খেলার অনন্য কীর্তি গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন তিনি।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ায় মেসি এখন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হওয়ার পথে রয়েছেন। ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত পাঁচটি আসরে খেলেছেন মেসি। এ সময়ে ২৬ ম্যাচে ১৩ গোলের পাশাপাশি ৮টি গোল করিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙার সুযোগও থাকবে তার সামনে।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কেবল ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২) টানা দুইবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন: মেসিকে অধিনায়ক করেই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বাদ কাতার বিশ্বকাপজয়ী তারকা
তবে বিশ্বকাপে মেসির অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল গত সপ্তাহে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ফুটবল লিগের এক ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে তার ক্লাব নিশ্চিত করে, বাম পায়ের পশ্চাৎ উরুর পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে ক্লান্তিজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার মাঠে ফেরার সময়সূচি নির্ভর করবে প্রতিদিনের শারীরিক উন্নতির ওপর।
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৭ জন সদস্যকে এবারও দলে রেখেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনসো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ।
মেসির ক্লাব সতীর্থ রদ্রিগো দে পলও দলে আছেন। পাশাপাশি রয়েছেন এনসো ফার্নান্দেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলার সময় ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে ফেললেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
দলে রাখা হয়েছে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকেও। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পেলেও তিনি সেরে ওঠার পথে রয়েছেন। এছাড়া পেশির চোট কাটিয়ে ওঠা নাহুয়েল মোলিনা ও গনসালো মন্তিয়েলও দলে জায়গা পেয়েছেন।
অন্যদিকে তরুণ প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, মার্কোস সেনেসি এবং এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি।
চোটের কারণে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে খেলতে না পারা মাঝমাঠের খেলোয়াড় জিওভানি লো সেলসো এবার দলে ফিরেছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের পর আট বছর পর আবারও বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া হোসে মানুয়েল লোপেস ও তিয়াগো আলমাদা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে সুযোগ পেয়েছেন।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই), হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)।
ডিফেন্ডার: ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার), লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই)।
মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস), এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন), ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ)।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান), নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), নিকো পাজ (কোমো), হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস)।