২৬ মে ২০২৬, ১৪:১৮

রোনালদোকে অসম্মান করলেন মাইকেল অলিসে

মাইকেল অলিসে ও রোনালদো   © সংগৃহীত

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাইকেল অলিসে। সময়ের অন্যতম সেরা পর্তুগিজ ফুটবলার হিসেবে রোনালদোর বদলে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নাম নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক বিষয়টিকে রোনালদোর প্রতি অসম্মান হিসেবেও দেখছেন।

গত মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন মাইকেল অলিসে। বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার ভোগান্তিতে ফেলেছেন। দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসাও হয়ে উঠেছেন তিনি।

তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং একটি সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্যের কারণেই আলোচনায় উঠে এসেছেন অলিসে। এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাকে বর্তমান সময়ের সেরা পর্তুগিজ ফুটবলার কে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই ব্রুনো ফার্নান্দেজের নাম বলেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারকে বেছে নেওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কারণ, অলিসের তালিকায় জায়গা পাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

৪১ বছর বয়সেও রোনালদো পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। বয়সের কারণে আগের মতো ফিটনেস বা গতি না থাকলেও অনেক সমর্থকের কাছে এখনও তিনি পর্তুগাল জাতীয় দলের প্রাণভোমরা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে জেতানোর ক্ষমতাও তার রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

এ কারণেই অলিসের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদল সমর্থকের মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্রুনো ফার্নান্দেজকে সেরা বলা অস্বাভাবিক নয়। তিনি ধারাবাহিকভাবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম কার্যকর মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। গোল, অ্যাসিস্ট ও নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বড় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে খেলছেন তিনি। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সুযোগ তৈরি করার দক্ষতার কারণে ইউরোপের অন্যতম পরিপূর্ণ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবেও বিবেচনা করা হয় তাকে।

তবে অন্য একটি অংশের মতে, রোনালদোর মতো কিংবদন্তিকে উপেক্ষা করা অসম্মানজনক। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের অর্জন প্রায় অতুলনীয়। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা, রেকর্ড ও স্মরণীয় পারফরম্যান্সে ভরা তার ক্যারিয়ার। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও তিনি এখনও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

ক্যারিয়ারের পুরো সময়জুড়েই সমালোচনা কিংবা অসম্মানকে বাড়তি প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেছেন রোনালদো। সমালোচক, প্রতিপক্ষ কিংবা বৈরী দর্শক—সবকিছুর জবাব তিনি বারবার মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই দিয়েছেন। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এখন সম্ভাব্য পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল ও ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ লড়াই নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

দুই দল মুখোমুখি হলে রোনালদো ও অলিসের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হতে পারে বলেও মনে করছেন ফুটবলভক্তরা।

অন্যদিকে, অলিসে নিজেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল ও অসাধারণ কারিগরি দক্ষতার কারণে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।

পুরো মৌসুমজুড়ে একের পর এক ম্যাচে একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়েছেন অলিসে। একই সঙ্গে বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণভাগের সৃজনশীলতার অন্যতম উৎসও হয়ে উঠেছেন তিনি। আধুনিক ফুটবলে সফল আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের যে নির্ভীক মানসিকতা প্রয়োজন, অলিসের খেলায় সেটির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। মাঠের বাইরেও তার আত্মবিশ্বাসী মনোভাব আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অলিসে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করতে চেয়েছিলেন কি না, সেটি স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্য আসন্ন বিশ্বকাপের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর ইতিহাস বলছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সাধারণত এমন মন্তব্য সহজে ভুলে যান না।