বিশ্বকাপের দলগুলোর অদ্ভুত সব ডাকনাম ও ইতিহাস
আর মাত্র তিন সপ্তাহের অপেক্ষা। এরপরই শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে গড়াবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ছাড়া ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।
আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমীদের নানান বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। আর ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ নানান সময়ে বিচিত্র ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর রয়েছে অদ্ভুত সব ‘ডাকনাম’। এসব ডাকনাম কী জানেন? বিশ্বকাপের গ্রুপ অনুযায়ী জেনে নেওয়া যাক, সেই বিষয়ে। ১২টি গ্রুপের মধ্য থেকে আজ থাকছে প্রথম মাঝের গ্রুপের (ই, এফ, জি ও এইচ) দলগুলোর ডাকনাম আর পেছনের কারণ প্রসঙ্গে...
গ্রুপ ই: জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও
জার্মানি- নেশনালেফ
‘নেশনালেফ’ অর্থ বুঝায় জার্মানি দলের ১১ জন ফুটবলার। ‘ডিএফবি ইলাভেন’ ডাকনামেও পরিচিত তারা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডাই মানশাট’ জার্মানির সবচেয়ে প্রচলিত নাম।
ইকুয়েডর- লা ট্রি
এই নিকনেইম তাদের জাতীয় পতাকার তিনটি রং নির্দেশ করে।
আইভরি কোস্ট- দ্য এলিফ্যান্ট
দেশটিতে একদা অনেক হাতি ছিল। হাতির দাঁতের সঙ্গে মিল রেখেই আইভরি কোস্টের নামটাই রাখা হয়। সেই হিসেবে দেশটির ফুটবল দলকে ‘দ্য এলিফ্যান্ট’ নামে ডাকা হয়।
কুরাসাও- ব্লু ওয়েভ
কুরাসাও ফুটবল দলের প্রধান ডাকনাম ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ‘নীল ঢেউ’। এ ছাড়া স্প্যানিশ ভাষায় ‘লা ফামিলিয়া আজুল’ বা ‘নীল পরিবার’ নামেও ডাকা হয়ে থাকে। মাঠের পারফরম্যান্স এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপের নীল জলরাশির অনুপ্রেরণা থেকে এই নামগুলো এসেছে।
গ্রুপ এফ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া, সুইডেন
জাপান- সামুরাই ব্লু
জাপান ‘সামুরাই’ যোদ্ধাদের জন্য বেশ বিখ্যাত। এজন্য জাপানের জাতীয় ফুটবল দলকেও ‘সামুরাই ব্লু’ হিসেবে ডাকা হয়।
আরও পড়ুন : বিশ্বকাপের দলগুলোর অদ্ভুত সব ডাকনাম ও ইতিহাস: পর্ব-০১
নেদারল্যান্ডস– অরেঞ্জ
নেদারল্যান্ডসকেও জার্সি রং অনুযায়ী ডাকা হয়। তাদের জার্সির রঙ ‘কমলা’।
তিউনিসিয়া- ইগলস অব কার্থেজ
‘কার্থেজ’ হলো তিউনিসিয়ার প্রাচীন নগরী। আর তাদের ফুটবল ফেডারেশনের ছবি অনুযায়ী তাদের এই নামে ডাকা হয়।
সুইডেন- ব্লাগল্ট
সুইডেন ফুটবল দলের ডাকনাম ‘ব্লাগল্ট’। এর অর্থ নীল হলুদের মুকুটধারী
গ্রুপ জি: বেলজিয়াম, ইরান, মিসর, নিউজিল্যান্ড
বেলজিয়াম- ডাই রোটেন টুয়েফল
‘ডাই রোটেন টুয়েফল’ একটি জার্মান শব্দ। এর অর্থ ‘রেড ডেভিলস’ বা ‘লাল শয়তান’। ১৯০৬ সালে বেলজিয়ামের জার্সির রং থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের সাবেক ম্যানেজার পিয়ের ওয়ালক্রিয়ার্স এই নামটি যুক্ত করেন।
ইরান- টিম মেল্লি
ফারসি শব্দ ‘টিম মেল্লি’ অর্থ ‘জাতীয় দল’। এ ছাড়া ইরানের আরও ডাকনাম রয়েছে। এগুলো হলো ‘শিরান-ই-ইরান’ অর্থ ‘ইরানের সিংহ’, ‘শিরদেলান’ মানে ‘সিংহহৃদয়’ এবং ‘প্রিন্সেস অব পার্সিয়া’ বা ‘পার্সিয়ান রাজপুত্র’।
মিসর- দ্য ফারাও’স
দেশটির প্রাচীন শাসকদের নামেই বর্তমান ফুটবল দলকে ডাকা হয়। মিসরের প্রাচীন সম্রাটদের ফারাও বলা হতো।
নিউজিল্যান্ড- অল হোয়াইটস
নিউজিল্যান্ড ডাকনাম ‘অল হোয়াইটস’। সম্পূর্ণ সাদা রঙের জার্সি ও শর্টস পরে খেলেন ফুটবলাররা, সেই কারণেই ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিক থেকে এই ডাকনামটি চালু হয়।
গ্রুপ এইচ: স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে
স্পেন- লা রোহা
লা রোহা শব্দের অর্থ ‘দ্য রেড ওয়ান’। স্পেন দলের আরেকটি ডাকনাম ‘লা ফুরিয়া রোহা’ বা ‘দ্য রেড ফিউরি’।
উরুগুয়ে- লা সেলেস্তে
লা সেলেস্তে লাতিন শব্দ। এর অর্থ আকাশী-নীল। এটি তাদের জার্সির রঙকে নির্দেশ করে।
সৌদি আরব- আল আখদার
সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাকনাম হলো ‘আল আখদার’। অর্থ ‘সবুজ’। আরেকটি ডাকনাম ‘আল-সাকার আল-আরাবিয়া’, যার অর্থ ‘আরবের বাজপাখি’।
কেপ ভার্দে- ব্লু শার্কস
তাদের ‘ব্লু শার্কস’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও পর্তুগিজ ভাষায় ‘তুবারোয়েনস আজুইস’ হিসেবেও ডাকা হয়।