২২ মে ২০২৬, ২২:০৪

চোট এড়াতে জেমিনির সহায়তা নেবেন মেসিরা

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল মাঠে এক অভিনব ও বৈপ্লবিক সংযোজন ঘটাতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট মার্কা’র বরাতে জানা গেছে, নিজেদের কোচিং স্টাফের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং মাঠের পারফরম্যান্স উন্নয়নে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘গুগল জেমিনি’ ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ।  গত বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কেন্দ্রে এক বিশালাকার বড় পর্দায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অংশীদারত্বের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করা হয়।

মূলত খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চোট বা ইনজুরি প্রতিরোধ করতে এবং প্রতিপক্ষের খেলার ধরন ও ম্যাচের খুঁটিনাটি কৌশল বিশ্লেষণে এই উচ্চমানের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কমার্শিয়াল ডিরেক্টর লিয়ান্দ্রো পিটারসেন বলেন, ‘এই প্রযুক্তি আমাদের খেলোয়াড়দের চোট এড়াতে, ম্যাচের কৌশল বিশ্লেষণ করতে এবং ম্যাচ চলাকালীন রিয়েল-টাইমে কোচিং স্টাফদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বড় ধরনের সহায়তা দেবে।’

গুগলের সঙ্গে এই চুক্তির আর্থিক পরিমাণের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ না করলেও একে এএফএ-এর ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী একটি চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পিটারসেন।

এই প্রযুক্তি কেবল মাঠের খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাধারণ ফুটবল ভক্ত ও সমর্থকদের জন্যও এটি উন্মোচন করবে এক নতুন দিগন্ত। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভক্তরা জেমিনি এআই ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ছবি আপলোড করার সময় সেখানে তাদের প্রিয় তারকা খেলোয়াড়, পছন্দের গানসহ নানা উপাদান যুক্ত করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ও আকর্ষণীয় ছবি বা কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে যারা সরাসরি মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন না, তারা এর মাধ্যমে জাতীয় দল এবং বিশেষ করে অধিনায়ক লিওনেল মেসির মতো তারকাদের আরও কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ পাবেন। 

ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রোপিকের ক্লদ কিংবা এক্স-এর গ্রকের মতো প্রযুক্তির বাজারে গুগলের জেমিনির এই সংযোজন ফুটবল বিশ্বকাপে এআই-এর প্রথম কোনো প্রকাশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ হতে যাচ্ছে। গুগলের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর ফ্লোর সাবাতিনি এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আগে যেসব বিশ্বকাপ দেখেছি, এবারের আসরটি তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য হতে চলেছে। এআই প্রযুক্তি এবার সরাসরি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের হাতের নাগালে থাকবে, যা পুরো ফুটবল দেখার ও খেলার অভিজ্ঞতাকেই বদলে দেবে।’

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সাথে অন্যতম ফেবারিট ও শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবেই মাঠে নামবে। ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা ২০২২ সালের কাতারে জেতা নিজেদের সোনালী ট্রফিটি ধরে রাখার মিশন নিয়েই এই এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন করে মাঠে নামতে যাচ্ছে।