২১ মে ২০২৬, ১৫:৩২

বিশ্বকাপের দলগুলোর অদ্ভুত সব ডাকনাম ও ইতিহাস

বিশ্বকাপ ট্রফি   © সংগৃহীত

আর মাত্র তিন সপ্তাহের অপেক্ষা। এরপরই শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে গড়াবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ছাড়া ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।

আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমীদের নানান বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। আর ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ নানান সময়ে বিচিত্র ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর রয়েছে অদ্ভুত সব ‘ডাকনাম’। এসব ডাকনাম কী জানেন? বিশ্বকাপের গ্রুপ অনুযায়ী জেনে নেওয়া যাক, সেই বিষয়ে। ১২টি গ্রুপের মধ্য থেকে আজ থাকছে প্রথম চার গ্রুপের (এ, বি, সি ও ডি) দলগুলোর ডাকনাম আর পেছনের কারণ প্রসঙ্গে... 

গ্রুপ এ: মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক প্রজাতন্ত্র

মেক্সিকো- এল ট্রি
মেক্সিকান ভাষায় ‘এল ট্রি’ মানে তিন রং।

দক্ষিণ আফ্রিকা- বাফানা বাফানা
জুলু ভাষায় ‘বাফানা বাফানা’ অর্থ ‘দ্য বয়েজ, দ্য বয়েজ’। মূলত বর্ণবাদ বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই নেশনস কাপে আফ্রিকার দলটির অন্তুভুর্তির পর থেকেই এই নামে তাদের ডাকা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া- তেগুকে ওয়ারিয়র্স
দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘দ্য রেডস’, ‘তেগুকে ওয়ারিয়র্স’ এবং ‘লায়নস অব এশিয়া’ নামে ডাকা হয়। তেগুকে কোরিয়ার একটি প্রতীক, যা দক্ষিণ তাদের পতাকায় রয়েছে।

চেক প্রজাতন্ত্র- নারোদাক
চেক প্রজাতন্ত্র দলকে ‘নারোদাক’ অর্থাৎ ‘জাতীয় দল’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। এ ছাড়া তাদের কথ্য ভাষায় ও সমর্থকদের মাঝে ‘নাশি’ নামেও ডাকা হয়, এর অর্থ ‘আমাদের ছেলেরা’।

গ্রুপ বি: কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

কানাডা- দ্য রেডস
‘দ্য রেডস’ ডাকনামে কানাডার জার্সির রঙ বুঝায়। এ ছাড়া পতাকার রঙ অনুযায়ী তাদের ‘ম্যাপলস লিফ’ বা ‘ম্যাপল পাতার দেশ’ হিসেবেও ডাকা হয়।

সুইজারল্যান্ড- রোজোক্রোসিয়াতি
রোজোক্রোসিয়াতি অর্থ ‘রেড ক্রস’। এ ছাড়া তাদের আরেকটি ডাকনাম ‘নাটি’।

কাতার- দ্য মেরুন
কাতার চলতি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল। হোম জার্সির রঙ অনুযায়ী তাদেরকে ‘দ্য মেরুন’ নামে ডাকা হয়।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা- ‘দ্য গোল্ডেন লিলি’
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা দল প্রধানত দুটি ডাকনামে পরিচিত। একটি ‘জমাজেভি’, যার অর্থ ‘ড্রাগন’। অন্যটি ‘সোনালী লিলি’, ইংরেজিতে ‘দ্য গোল্ডেন লিলি’ নামে পরিচিত।

গ্রুপ সি: ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি

ব্রাজিল- সেলেসাও/ক্যানারি
‘সেলেসাও’ পর্তুগিজ ভাষায় একটি সুপরিচিত শব্দ। সেলেসাও অর্থ ‘নির্বাচিত খেলোয়াড়রা’। ব্রাজিলিয়ানরা তাদের সেলেসাও বলে থাকেন। এ ছাড়া ব্রাজিলের বিখ্যাত ছোট পাখি ‘ক্যানারি’ অনুযায়ী তাদের ‘ক্যানারি’ নামেও ডকা হয়।

মরক্কো- দ্য অ্যাটলাস লায়নস
মরক্কোর ডাকনাম ‘দ্য অ্যাটলাস লায়নস’। এর দ্বারা বিভিন্ন প্রজাতির সিংহ বুঝায়। কারণ, এই দেশেই বিভিন্ন প্রজাতির সিংহের দেখা মিলে।

স্কটল্যান্ড- টার্টান আর্মি
তাদের নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ডাকনাম নেই। তবে সমর্থকরা সম্মিলিতভাবে ‘টার্টান আর্মি’ নামে পরিচিত। স্কটিশ সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ‘চেক প্যাটার্ন’ বা ‘টার্টান’ থেকে এসেছে বিষয়টি।

হাইতি- লে গ্রেনেডিয়ার্স
হাইতি দলের প্রধান ডাকনাম হলো ‘লে গ্রেনেডিয়ার্স’, এর অর্থ ‘সৈনিক’। পাশাপাশি, দলটি ‘ল্য রুজ এ ব্লু’ অর্থাৎ ‘লাল ও নীল’ এবং ‘লে বিকেলোরস’ বা ‘দ্বিবর্ণ’ নামেও পরিচিত।

গ্রুপ ডি: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্র- স্টার স্ট্রাইপস
পতাকার তারকা ও ফুটবল ফেডারেশনের স্ট্রাইপ লোগো মিলিয়ে এই নামে ডাকা হয়।

অস্ট্রেলিয়া- সকারুজ
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় প্রাণী ক্যাঙ্গারু অনুযায়ী এই নাম দেওয়া হয়েছে।

প্যারাগুয়ে- ‘লা আলবিওরোজা’
প্রধান দুটি ডাকনাম হলো ‘লা আলবিওরোজা’ এবং ‘লস গুয়ারানিয়েস’। লা আলবিওরোজা স্প্যানিশ শব্দগুচ্ছ, এর অর্থ ‘সাদা ও লাল’। দেশটির জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দলটির হোম জার্সির লাল ও সাদা রঙের স্ট্রাইপের জন্য এই নামকরণ করা হয়। এ ছাড়া দেশটির আদিবাসী গুয়ারানি জনগোষ্ঠী ও তাদের ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘লস গুয়ারানিয়েস’ ডাকনামটি দেওয়া হয়েছে।

তুরস্ক- দ্য ক্রিসেন্ট স্টারস
তুরস্ক দলের প্রধান ডাকনাম হলো ‘আয়-ইলদিজিলিরাল’ বা ‘দ্য ক্রিসেন্ট-স্টারস’, এর অর্থ ‘চন্দ্র-তারকা’। এ ছাড়া তাদের আরেকটি জনপ্রিয় ডাকনাম হলো ‘বিজিম চোকলার’, যার বাংলা অর্থ ‘আমাদের ছেলেরা’। তুরস্কের জাতীয় পতাকার চাঁদ ও তারকার প্রতীক থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই মূলত এই চমৎকার ডাকনামগুলোর উৎপত্তি।