এক দেশের সন্তান, অন্য দেশের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—ইতিহাস গড়া ২২ ফুটবলার
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ২২ জন খেলোয়াড় আছেন, যারা এক দেশে জন্মেছেন কিন্তু অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছেন। বিরল এই তালিকায় ইতালি, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ফুটবলারদের সবচেয়ে বেশি নাম পাওয়া যায়। আর একজন ফুটবলার তো দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অনন্য নজিরও গড়েছেন।
১৯৩৪ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ে বিদেশে জন্ম নেওয়া কয়েকজন ফুটবলারের বড় অবদান ছিল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া আত্তিলিও দেমারিয়া, এনরিকে গুয়াইতা, লুইস মন্তি ও রাইমুন্দো ওরসি সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া আনফিলোগিনো গুয়ারিসি, ফ্রান্সের ফেলিস বোরেল এবং ক্রোয়েশিয়ায় জন্ম নেওয়া মারিও ভার্গলিয়েনও ইতালির শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন।
এদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে লুইস মন্তির নাম আলাদাভাবেই উচ্চারিত হয়। কারণ, একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুটি আলাদা দেশের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন তিনি। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফাইনাল খেলেছিলেন, যেখানে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের। পরে চার বছর পর ইতালির হয়ে খেলেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান মন্তি।
ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করা খেলোয়াড়দের মধ্যে ফ্রান্সের মার্সেই দেশাই (জন্ম: ঘানা) ও পাত্রিক ভিয়েরা (জন্ম: সেনেগাল), জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (জন্ম: পোল্যান্ড) ও লুকাস পোদোলস্কি (জন্ম: পোল্যান্ড) এবং ইতালির ক্লাউদিও জেনতিলে (জন্ম: লিবিয়া) বিশ্বকাপ জিতে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালেও এই তালিকায় আরও কিছু নতুন নাম যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার নিকো পাজ (জন্ম: স্পেন), মাতেও পেলেগ্রিনো (জন্ম: স্পেন) ও জিউলিয়ানো সিমিওনে (জন্ম: ইতালি) কিংবা ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে (জন্ম: ইংল্যান্ড) ও মার্কাস থুরামদের (জন্ম: ইতালি) মতো তরুণদের এই কীর্তিতে ভাগ বসানোর সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ইংল্যান্ডের মার্ক গেয়িহে (জন্ম: আইভরি কোস্ট), জার্মানির ভালদেমার আন্তন (জন্ম: উজবেকিস্তান) এবং পর্তুগালের দুই তারকা দিয়েগো কোস্তা (জন্ম: সুইজারল্যান্ড) ও ম্যাথিউস নুনেস (জন্ম: ব্রাজিল) এই তালিকায় নাম তুলতে পারেন।