২১ মে ২০২৬, ০৮:৪৪

ভাঙা আঙুল নিয়েই গোলবার সামলালেন মার্টিনেজ, ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ভিলার

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ  © সংগৃহীত

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের তুপরাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২১-২০২৬ মৌসুমের উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে ফ্রাইবার্গকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। এই রাজকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে ক্লাবটি অবসান ঘটিয়েছে দীর্ঘ ৪৪ বছরের ইউরোপীয় শিরোপার খরা। একই সাথে ঘুচিয়েছে ৩০ বছরের কোনো বড় ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ। ভিলার এই ঐতিহাসিক মহাকাব্যের অন্যতম নায়ক দলটির আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে হাতের আঙুল ভেঙে যাওয়ার পরও পুরো ৯০ মিনিট বীরত্বের সাথে গোলবার সামলিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচের কিক-অফের ঠিক আগমুহূর্তে ওয়ার্ম-আপ বা গা গরম করার সময় এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন ৩৩ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকা। অনুশীলনের সময় তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। ম্যাচ শুরুর আগে মাঠেই গোলকিপিং কোচ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দেখা যায় তাকে। তবে বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক ভাঙা আঙুলের তীব্র যন্ত্রণা নিয়েও মানসিকভাবে বিন্দুমাত্র ভেঙে পড়েননি। দলের প্রয়োজনে ইনজেকশন বা ব্যান্ডেজ নিয়ে তিনি পুরো ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

যদিও পুরো ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার একচেটিয়া দাপটের কারণে ফ্রাইবার্গ খুব বেশি আক্রমণ করতে পারেনি, তবুও যে দু-একটি সুযোগ প্রতিপক্ষ তৈরি করেছিল, ভাঙা আঙুল নিয়েই দুটি দুর্দান্ত সেভ বা কর্নার প্রতিহত করে নিজের জাল অক্ষত (ক্লিন শিট) রাখেন মার্টিনেজ। ২০২০ সালে ভিলায় যোগ দেওয়ার পর এটিই তার ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো শিরোপা।

ইস্তাম্বুলের ফাইনালে ম্যাচ জুড়েই ছিল অ্যাস্টন ভিলার একক আধিপত্য। প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে কর্নার কিক থেকে আসা একটি ছোট পাস ধরে মর্গান রজার্স ক্রস বাড়ান, যা থেকে দুর্দান্ত এক ডান পায়ের ভলিতে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ইউরি তিলেমানস (১-০)। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৪৫+৩) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার চমৎকার বাঁকানো শটটি ফ্রাইবার্গের জালে জড়ায়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে (৫৮ মিনিট) বুয়েন্দিয়ার বাড়ানো নিঁখুত ও নিচু ক্রস থেকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে ভিলার ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন মর্গান রজার্স।

আরও পড়ুন: ‘আমি বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে কেঁদেছি, এখানে আসাটা সহজ ছিল না’

ম্যাচ শেষে ট্রফি জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে নিজের আঙুল ভাঙার খবরটি নিশ্চিত করে মার্টিনেজ বলেন, ‘আজ ওয়ার্ম-আপের সময় আমার আঙুলটি ভেঙে যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি খারাপ পরিস্থিতিই আসলে ভালো কিছুর বার্তা নিয়ে আসে। আমি সারা জীবন এভাবেই ফুটবল খেলেছি এবং ভবিষ্যতেও খেলব।’

প্রথমবারের মতো আঙুল ভাঙার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এই তারকা আরও বলেন, ‘চিন্তার কিছু আছে কি না জানি না, কারণ এর আগে কখনো আমার আঙুল ভাঙেনি। আজ ম্যাচ চলাকালীন যতবারই আমি বল ধরতে যাচ্ছিলাম, আমার আঙুলটি পেছনের দিকে (উল্টো দিকে) বেঁকে যাচ্ছিল। কিন্তু দলের জন্য এই কষ্টটুকু আমাকে সহ্য করতেই হতো। আমি অ্যাস্টন ভিলার গোলবার রক্ষা করতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত।’

হাতের আঙুল ভাঙলেও ম্যাচ শেষে ট্রফি উদযাপনে মার্টিনেজের মাঝে কোনো জড়তা বা ক্লান্তি দেখা যায়নি। উয়েফা ইউরোপা লিগের রেকর্ড পঞ্চম শিরোপাজয়ী ভিলা কোচ উনাই এমেরিকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, মাঠে উপস্থিত ক্লাবটির দূরদূরান্ত থেকে আসা সমর্থকদের গ্যালারিতে নিজেকে ছুঁড়ে দিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন তিনি। ভিলার সমর্থকদের জন্য ১৯৯৬ সালের লিগ কাপ জয়ের পর এটিই ছিল প্রথম কোনো বড় ট্রফি জয়ের স্বাদ।

তবে মার্টিনেজের এই ইনজুরি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের। আগামী মাসে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে এই তারকা গোলরক্ষকের চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আর্সেনালের সাবেক এই গোলরক্ষক এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের খেলা প্রতিটি ফাইনাল ম্যাচেই অপরাজেয় থাকার রেকর্ড ধরে রাখলেন; যার মধ্যে রয়েছে এফএ কাপ, ফিফা বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং সর্বশেষ এই ইউরোপা লিগ শিরোপা।