বিশ্বকাপে চোটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দলগুলোর মধ্যে শীর্ষে ব্রাজিল, এরপরে কারা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে ব্রাজিলকেই চোটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলা হচ্ছে। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চোট বা ফিটনেস সমস্যায় এরই মধ্যে দল থেকে ছিটকে গেছেন, আবার কেউ কেউ আছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় নামার আগেই রদ্রিগো, এদের মিলিতাও এবং এস্তেভাওয়ের মতো তারকাদের হারিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে সেলেসাওরা। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন বা আর্জেন্টিনার মতো অন্যান্য শীর্ষ দলগুলোও কম-বেশি চোট সমস্যায় পড়েছে, তবে ব্রাজিলের মতো একসঙ্গে একাধিক মূল খেলোয়াড়কে হারানোর মতো ক্ষতি আর কোনো দলেরই হয়নি।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্তত তিনটি বড় নাম রয়েছে। রদ্রিগো ও এদের মিলিতাও রিয়াল মাদ্রিদের নিয়মিত মুখ এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির ‘গুডবুকেও’ ছিল তাঁদের নাম। নিজ নিজ পজিশনে তাঁরা সময়ের অন্যতম সেরা তারকা। তালিকার অন্য নামটি চেলসির উইঙ্গার এস্তেভাওয়ের, যাকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ মুখ হিসেবে ভাবা হচ্ছিল।
আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে বিশ্বকাপের জন্য গড়ে তুলেছিলেন। এই কোচের অধীনে ব্রাজিলের হয়ে ৭ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি ৫টি গোল করিয়েছেন এস্তেভাও। এটি আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্ট। তাঁর খেলায় চিরায়ত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্য থাকলেও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেই জায়গা পাননি এস্তেভাও।
এস্তেভাওকে হারানোয় নিশ্চিতভাবে বিপাকে পড়া কোচ আনচেলত্তির জন্য বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নেইমারও। ফিটনেস সমস্যায় অনিশ্চয়তায় থাকা ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় এই তারকা শেষ পর্যন্ত যদি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পানও, তাঁর চোটপ্রবণতা কোচকে ভাবিয়ে তুলবে। কারণ, এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চোটে পড়ে ছিটকে গিয়েছিলেন এই সান্তোস তারকা।
অন্যান্য বড় দলগুলোর দিকে তাকালে ব্রাজিলের পর স্পেনের নাম বলা যায়। বিশ্বকাপের আগে দলটির দুই উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস ও লামিনে ইয়ামাল চোটে পড়েছেন, তবে দুজনই হয়তো শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে ফিরবেন। এ ছাড়া এফসি পোর্তোর ২২ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড সামু ওমোরোদিয়নকে মিস করবেন স্প্যানিশ কোচ দে লা ফুয়েন্তে।
ফ্রান্স ও জার্মানির মতো শীর্ষ দলগুলোও চোটের তালিকায় আছে, তবে ব্রাজিলের তুলনায় তাদের ক্ষতি কম বলেই ধরা হচ্ছে। যেমন ফ্রান্স হুগো একিতিকেকে হারিয়েছে, আর জার্মানির জন্য বড় ধাক্কা হলো সার্জ নাবরির অনুপস্থিতি। তবে স্কোয়াডে গভীরতা থাকায় তারা এই ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সামলে নিতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ফ্রাঙ্কো পানিচেল্লি ও হুয়ান ফয়েথ বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে ফয়েথের জন্য এটা বড় ধাক্কা, কারণ তিনি আগেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। তবে এই দুজনের অনুপস্থিতি দল হিসেবে আর্জেন্টিনার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে না।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্য দলে কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্রাজিলের মতো একাধিক মূল খেলোয়াড় একসঙ্গে হারানোর মতো বড় ধাক্কা নয়।