১৫ মে ২০২৬, ০১:৫৭

বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ভিসা নীতিমালা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো  © সংগৃহীত

আর মাত্র একমাস পর মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো তিন দেশের হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। এদিকে এই বৈশ্বিক মহাযজ্ঞকে ঘিরে নিজেদের ভিসা নীতিমালা শিথিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু দেশের বিদেশি দর্শকদের জন্য ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড প্রদানের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করছে, যদি তারা বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিটধারী হিসেবে নিশ্চিত হন। খবর সিএনএনের

অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর রিপাবলিকান প্রশাসনের ব্যাপক কড়াকড়ির অংশ হিসেবে গত বছর এই বন্ডের নিয়ম চালু করা হয়েছিল। মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসা শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি এবং যাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ওপরই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। বিশ্বের মোট ৫০টি দেশের ভ্রমণকারীদের ওপর এই নতুন বন্ডের নিয়ম প্রযোজ্য হলেও, বর্তমানে বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী পাঁচটি দেশ; আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল এবং তিউনিসিয়া—এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সের সহকারী স্টেট সেক্রেটারি মোরা নামদার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবং সেরা ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে অত্যন্ত উৎসাহিত"। তিনি আরও জানান যে, যেসব যোগ্য ভক্ত বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন এবং ফিফা পাস (FIFA Pass) সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের জন্য ভিসার এই বন্ড মওকুফ করা হচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে এই ফিফা পাস সিস্টেমের মাধ্যমে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দ্রুত পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসন নিয়মের এই শিথিলতা একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিশ্বকাপের খেলোয়াড়, কোচ এবং কিছু নির্দিষ্ট কর্মীদের এই বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে টুর্নামেন্টের জন্য ভিসার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। তবে সাধারণ ভক্তরা, এমনকি তাদের কাছে নিশ্চিত টিকিট থাকলেও, বুধবারের আগে পর্যন্ত এই ছাড়ের আওতায় ছিলেন না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নানা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক মিলনমেলার আয়োজনের ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি সমালোচনার মুখে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরান এবং হাইতির ভ্রমণকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিশ্বকাপের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য তা শিথিল রাখা হয়েছে। এছাড়া আইভরি কোস্ট ও সেনেগালের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দেশের সাধারণ নাগরিকরাও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে আংশিক সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছেন। বিদেশিদের জন্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাস জমা দেওয়ার নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে এবং সম্প্রতি বিমানবন্দরগুলোতে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থার কারণে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা একটি ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ জারি করেছে, যা ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে। অন্যদিকে, আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, ভিসার জটিলতা এবং অতিরিক্ত ফির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যার ফলে বিশ্বকাপের জন্য হোটেলের বুকিং প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

বন্ডের এই নিয়মটি মূলত ভিসা শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টার অংশ। সাধারণত আক্রান্ত দেশগুলোর ভিসা আবেদনকারীদের ৫,০০০, ১০,০০০ অথবা ১৫,০০০ ডলার বন্ড হিসেবে দিতে হয়, যা ভিসার শর্ত মেনে চললে পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়। এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বন্ডের আওতায় থাকা ভক্তদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫০ জনের মতো, তবে টিকিট বিক্রির সাথে সাথে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফিফার পক্ষ থেকে এই বন্ড মওকুফের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আলোচনার পর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অনুমোদন করেছে।