১৩ মে ২০২৬, ২১:৩৭

‘বিশ্বকাপের জন্যই বেঁচে থাকা’

হ্যারি কেইন  © সংগৃহীত

কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিস হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি ছিল। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও বলটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। তবে সেই হতাশাজনক মুহূর্তই এখন তাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত কেইন।
 
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণাদায়ক সময় নিয়ে কেইন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে ওটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। ওই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্তিশালী হতে হয়েছে—এবং আমি তা পেরেছি। আমার মনে হয়, ওই ঘটনা আমাকে দিনশেষে আরও ভালো একজন খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।’

আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী কেইন। নিজের মানসিকতা নিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘আসল কথা হলো, শৈশবে আপনি এই দিনটিরই স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিশ্বকাপে আসার পর অনেক সময় হারের ভয় বা বড় মঞ্চের চাপ আমাদের গ্রাস করে ফেলে, কিন্তু এটাই জীবনের অংশ। আমরা তো এই মুহূর্তগুলোর জন্যই বেঁচে থাকি। এই সুযোগ পাওয়ার জন্যই তো আমরা প্রতিদিন মাঠে ঘাম ঝরাই।’

কেইন যোগ করেন, ‘বলাটা সহজ হলেও করাটা কঠিন, তবে আমার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা তরুণদের এই ভয় কাটাতে সাহায্য করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ফুটবল ক্যারিয়ার খুব ছোট, এবং আপনি খুব বেশি বড় টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাবেন না। তাহলে ভয় পেয়ে কেন সেটা নষ্ট করবেন? মাঠে নামুন এবং নিজের সেরাটা উজাড় করে দিন।’

বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার কাছে বিশ্বকাপ একজন পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। এটি হতে যাচ্ছে আমার তৃতীয় বিশ্বকাপ। সত্যি বলতে, এর রোমাঞ্চ দিন দিন আরও বাড়ছে; কারণ আপনি জানেন এর গুরুত্ব কতটা। গ্যালারি ভর্তি সমর্থকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলাটা কতটা স্পেশাল, তা এখন আরও বেশি উপলব্ধি করি। আমি আবারও সেই মঞ্চে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।’

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ট্রফি ছুঁতে না পারার আক্ষেপে পুড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। তবে কেইনের বিশ্বাস, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হবে এই আক্ষেপই। শিরোপার অধরা স্বপ্ন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে কেইন বলেন, ‘যখন আপনি শিরোপার একদম খুব কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেন, সেই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন—বড্ড যন্ত্রণাদায়ক। আমি জানি এই ট্রফিটা জেতা আমাদের খেলোয়াড় বা স্টাফদের চেয়েও দেশের সমর্থকদের কাছে কতটা আবেগের। এটি এমন এক স্মৃতি হবে যা মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে। আমরা যেহেতু বারবার খুব কাছ থেকে ফিরেছি, সেই জেদটাই আমাকে আবারও সেখানে যাওয়ার এবং শেষ বাধাটা টপকানোর শক্তি যোগায়।’

ইংল্যান্ড একবারই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে দ্বিতীয়বারের মতো ইংলিশদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে ১৯৬৬ সালের সেই কিংবদন্তিদের কাতারে শামিল হওয়ার স্বপ্ন কেইনের। তার ভাষ্যমতে, ‘এটা নিয়ে ভাবাটাও এখন বেশ কঠিন। আমার মনে হয়, সেই সেতুটি পার হওয়ার সময় তখনই আসবে যখন আমরা লক্ষ্যটির খুব কাছে পৌঁছাতে পারব। কারণ এখনো অনেকটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। ইংল্যান্ডের শেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেক দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে এবং আমি জানি প্রতিটি ইংলিশ সমর্থক এখন এই একটি সাফল্যের জন্য কতটা তৃষ্ণার্ত।’

নিজের এবং দলের লক্ষ্য জানিয়ে কেইন বলেন, ‘আমরা সবাই সেই সোনালী ইতিহাসের অংশ হতে চাই এবং নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখতে চাই। তবে আমরা এটাও জানি যে, এই সাফল্যের চূড়ায় ওঠা অনেকটা পাহাড় জয়ের মতো কঠিন একটি কাজ। এর জন্য প্রচুর ত্যাগ আর কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন, আর আমরা সেই ত্যাগ স্বীকার করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ‘এল’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা এই গ্রুপে জায়গা পেয়েছে। বাছাইপর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড (৮ ম্যাচে ৮ জয়) এবং একটি গোলও হজম না করার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানে এবারের আসরে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে ইংলিশরা।