০৯ মে ২০২৬, ১৪:২০

যেকারণে দেড় মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে মেক্সিকোর সব স্কুল

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্বাগতিক মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে উত্তর ফুটবল বিশ্বকাপ। আমেরিকার তিন দেশ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্কুল ছুটির সময়সীমাকে ঘিরে জন্ম নিয়েছে নতুন আলোচনা।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী মারিও ডেলগাডো উত্তরাঞ্চলীয় সোনোরা রাজ্যে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা ৫ জুনের মধ্যে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে যাচ্ছি। কারণ, অনেক রাজ্যে এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে, এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের বিষয়টিও আছে। তবে এর বদলে আগামী শিক্ষাবর্ষের ক্লাস কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।’

এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় দেড় মাস আগেই শুক্রবার (৮ মে) মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্কুল ছুটির ঘোষণার পরপরই অভিভাবকদের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

তবে দশেটির শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দিলেও প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম একে কেবল একটি ‘প্রস্তাব’ বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে শেনবাউম বলেন, ‘এখনো কোনো চূড়ান্ত সূচি হয়নি। শিশুরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’

কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে টানা তিন মাস সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে তাঁদের এবং গুনতে হবে বাড়তি খরচও।

মেক্সিকোর একটি পাবলিক পলিসি থিঙ্কট্যাংক ‘মেক্সিকো ইভালুয়া’ বলছে, ‘স্কুলের ছুটি এগিয়ে আনলে ২ কোটি ৩৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে তাদের শেখার সময় যেমন কমবে, তেমনি বিদ্যমান বৈষম্য ও পিছিয়ে পড়ার হার আরও বাড়বে।’ অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন ‘কোপারমেক্স’ এ সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ উল্লেখ করে বলেছে, এর ফলে কর্মজীবী পরিবারগুলোর কাজের সূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

এদিকে মেক্সিকো প্রেসিডেন্টের বিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জালিসকো এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আগের সূচি অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখবেন। তবে এই রাজ্যের শহর গুয়াদালাহারায় বিশ্বকাপের যে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, শুধু সেই ৪ দিন কৌশলগত কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হবে।