টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালেতে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি নিজেদের দখলে রাখে লাল-সবুজের দল। এই জয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরেকবার প্রতিষ্ঠা করল মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যায় ভারত। চতুর্থ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রোহেনের নিখুঁত ক্রসে বক্সে উঠে আসা আবরাশ দারুণ এক হেড নিলেও বলটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। তবে প্রাথমিক চাপ সামলে দ্রুতই খেলায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ। দুই প্রান্তে মানিক ও রোনান সুলিভানের গতিময়তায় ভারতীয় রক্ষণভাগ বেশ চাপে পড়ে। ১৩ মিনিটে সুলিভানের ফ্রি-কিক থেকে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর জোরালো হেডও লক্ষ্যে ছিল না—বল চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে বাইরে।
২৫ মিনিটের দিকে টানা আক্রমণে ভারতকে কোণঠাসা করে ফেলে বাংলাদেশ। ইউসুফকে লক্ষ্য করে নেওয়া একটি লম্বা থ্রো-ইন ভারতীয় ডিফেন্ডাররা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নেওয়া শটটি সহজেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক।
৩৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। একটি লং বল ক্লিয়ার করতে গোলপোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন, কিন্তু বলের নাগাল পাননি। তবে ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় রক্ষা পায় লাল-সবুজের দল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোলের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। মুর্শেদ আলীর ক্রস থেকে বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে রোনান সুলিভানের নেওয়া দৃষ্টিনন্দন অ্যাক্রোবেটিক হাফ-ভলি উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে বাংলাদেশ। শুরুতেই কয়েকটি আক্রমণের চেষ্টা করে ভারত। ৫৩ মিনিটে ওমাং দোদুমের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেন মাহিন। ৬৪ মিনিটে আবারও একটি থ্রো-ইন সামলাতে গিয়ে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলেও বল ধরতে পারেননি তিনি, তবে ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
৬৬ মিনিটে নাজমুল হুদার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের তরুণ ডেকলান সুলিভান। তাকে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ মার্ক কক্স, কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পায় ভারত। ঋষি সিংয়ের ক্রস থেকে ওমাং দোদুম বল মিস করলেও পেছনে ফাঁকায় থাকা সতীর্থ জোরালো শট নেন, যা ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়—বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ করা চার মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পরও গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।