জাম্বিয়াকে গোলের বন্যায় ভাসাল আর্জেন্টিনা
জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রেখে আফ্রিকার দলটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে বুয়েনস এইরেসের লা বোমবোনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন লিওনেল মেসি। পুরো ম্যাচ খেলেই দলকে সহজ জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। হুলিয়ান আলভারেজ দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দার আত্মঘাতী গোল এবং যোগ করা সময়ে ভ্যালেন্টিন বারকোর গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
শুরুতে গোল হজমের পর রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে জাম্বিয়া। বল দখলে রেখে আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ গড়ে রাখে আফ্রিকান দলটি।
৪১তম মিনিটে মেসির দারুণ পাসে সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি আলভারেজ। তবে ৪৪তম মিনিটে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। ডি বক্সে বল পেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে গোলটি করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার ১১৬তম গোল।
বিরতির পর ৫০তম মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। থিয়াগো আলমাদা ফাউলের শিকার হলে স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন ওতামেন্দি। নিজের শট না নিয়ে দীর্ঘদিনের সতীর্থকে সুযোগ করে দেন মেসি।
এরপর ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ে। আলমাদার শট ঠেকাতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে শেষ গোলটি করেন তরুণ মিডফিল্ডার ভ্যালেন্টিন বারকো। নিকো গনসালেসের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে সহজ শটে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি।
ম্যাচজুড়ে দারুণ ছন্দে ছিল আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনি যে উন্নতি দেখতে চেয়েছিলেন, মেসি-আলভারেজরা তা মাঠে দেখিয়েছেন।
এর আগে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসি শুরুর একাদশে ছিলেন না। সে ম্যাচে ২-১ গোলে জিতলেও ছন্দে ছিল না দলটি। তবে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে বড় জয় তুলে নেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
মার্চে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত দুই প্রীতি ম্যাচেই জয় পেল আর্জেন্টিনা। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এই দুটি ম্যাচই ছিল নিজেদের মাঠে তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ।