৩১ মার্চ ২০২৬, ২১:০৯

‘আমি শুধু একজন মানুষ’—চাপ, সমালোচনা আর জীবনের গল্পে নেইমার

নেইমার জুনিয়র   © সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের একদম শেষপ্রান্তে এসে নিজের পথচলা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন নেইমার জুনিয়র। অল্প বয়সে শুরু করে দীর্ঘ সময়ে সাফল্য ও ত্যাগ-দুই দেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলে তার জায়গা অনিশ্চিত, তবে শেষবার অংশ নেওয়ার আশা ছাড়ছেন না। তাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ফিরে দেখছেন জীবনের গল্প ও অভিজ্ঞতা।

তার ভাষ্যমতে, ‘তখন আমার বয়স ১৩–১৪। স্কুলের ভ্রমণে যাওয়া হয়নি, বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যাওয়া হয়নি। কারণ, পরদিন সকালে অনুশীলন থাকত। আমি প্রায়ই বলতাম, ‘‘ধুর! আমার সব বন্ধুরা মজা করছে, আর আমি ঘরে বসে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি।’’

নেইমার যোগ করেন, ‘কিন্তু এর পেছনে একটা লক্ষ্য ছিল, একটা কারণ ছিল, আমি সেটা বুঝতাম। মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগত, কিন্তু পরের দিনই আমি আনন্দে ভেসে যেতাম। কারণ, আমি ফুটবল খেলতাম।’

বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও বিপুল সম্পদ অর্জন করেও মাঝে মাঝে সবকিছু থেকে দূরে সরে গিয়ে ফুটবলের বাইরে এক সাধারণ জীবন অনুভব করতে চান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। তার ভাষ্য, ‘আমি প্রায় ২০ বছর থরে এই পরিস্থির মধ্যে আছি। ব্যাপারটা খুব কঠিন। ব্রাজিলে তো এটা একেবারেই ক্লান্তিকর ও নির্মম। মানুষ তোমাকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে, অথচ বোঝেই না তুমি একজন সাধারণ মানুষ।’

নিজেকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে ভাবতেই স্বস্তি উল্লেখ করে নেইমারের মন্তব্য, ‘ঠিক আছে, এটা ভীষণ কঠিন। আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। কারণ, আমি পরিশ্রম করে এখানে পৌঁছেছি। কিন্তু আমি তো একজন মানুষই।’

চোটের সঙ্গে লড়াই নেইমারকে স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমিও কষ্ট পাই, ব্যথা অনুভব করি, কখনো খারাপ মুডে ঘুম থেকে উঠি, কাঁদি, রেগে যাই, আবার খুশিও হই—এগুলো সবই স্বাভাবিক। আমি কেন স্বাভাবিক জীবনটা কাটাতে পারব না?

নেইমার বলেন, ‘কোনো না কোনো কারণে কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করে না, এটা দেখলে আমার খারাপ লাগে। আমি যেন ভুল করতে পারি না, একেবারেই না। অথচ আমি আগেই অনেক ভুল করেছি। আমি মাথা নত করে সেগুলো স্বীকার করি। কারণ, এগুলো জীবনেরই অংশ। এখন আমার বয়স ৩৪, অনেক ভুল করেছি, সামনে আরও করব।’

ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার; সেলেসাওদের জার্সিতে তার গোল সংখ্যা ৭৯। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেন তিনি। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ-হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামেননি।

সম্প্রতি সান্তোস এফসি’র হয়ে মাঠে ফিরলেও তার পারফরম্যান্স এখনো জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে তার দলে জায়গা পাওয়া এখনো অনিশ্চিত।