২০ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫

ইসরায়েলকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর শাস্তি দিল ফিফা

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা  © সংগৃহীত

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফিফা জানিয়েছে, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ফিফার আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েলকে দেড় লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। 

ফিফার ৭৪তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনের তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে ফিফা কাউন্সিল ও ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিফা আচরণবিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈষম্য ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড এবং ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আক্রমণাত্মক আচরণ ও 'ফেয়ার প্লে' নীতি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জরিমানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধে ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

জরিমানার বাইরেও ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনা পালনের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা:

সচেতনতামূলক ব্যানার প্রদর্শন: ইসরায়েলকে তাদের পরবর্তী তিনটি আন্তর্জাতিক (এ-লেভেল) হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামে বড় আকারের ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। সেখানে ফিফার লোগোসহ স্পষ্টভাবে লেখা থাকতে হবে ‘ফুটবল পুরো বিশ্বকে একত্র করে; এখানে বৈষম্যের ঠাঁই নেই’। এই ব্যানারের নকশা ও অবস্থান ম্যাচের অন্তত ১৫ দিন আগে ফিফার কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

সংস্কার পরিকল্পনা ও অর্থায়ন: মোট জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ দিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বৈষম্য বিরোধী একটি বিশাল প্রকল্প বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে স্টেডিয়ামে সারা বছর ব্যাপী শিক্ষামূলক প্রচারণা, বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রটোকল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই পরিকল্পনাটি ফিফার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ৭ নম্বর ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বাকি জরিমানার অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি উল্লেখ করেছে, ফুটবলের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার পাশাপাশি বৃহত্তর মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে সংঘাত ও বিভাজনের সময়ে ফুটবলকে শান্তি, সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব বহন করে ফিফা। মানুষের মর্যাদা, সমতা এবং ঐক্য নিশ্চিত করতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।